সৌভিক মুখার্জী, কসবা: গত বছরের জুন মাসে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় (Kasba Rape Case) একেবারে তোলপাড় হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্যের রাজনীতি। আর সেই ঘটনার প্রায় এক বছর পর শুরু হল আইনি লড়াই। হ্যাঁ, আলিপুর আদালতে এই মামলার বিচার পর্বের প্রথম দিন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে বলে খবর সূত্রের।
প্রথম দিন কাদের সাক্ষ্য নেওয়া হল?
বিচারপর্বের প্রথম দিনই সল্টলেকে সাইবার ফরেনসিক ও ডিজিটাল এভিডেন্স এগজামিনার্স ল্যাবরেটরির এক বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে খবর। সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বিশেষজ্ঞদের জবানবন্দী নেওয়া শুরু করেছেন। আর এই সপ্তাহেই ফের সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে, যেখানে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা বিশেষজ্ঞদের জেরা করতে পারেন।
বলে রাখি, এই মামলায় মূল অভিযুক্ত হলেন মনোজিৎ মিশ্র। যিনি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তথা তৃণমূল কর্মী। আর বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন পাশাপাশি জায়েব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়ও অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছে। তারাও কলেজের দুই ছাত্র আর বর্তমানে তারাও জেলে হেফাজতে। এদিকে কলেজের নিরাপত্তা রক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়ও দোষীদের তালিকায় রয়েছেন। তিনি বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকলেও বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতের ‘চিকেন নেক’-র কাছে সামরিক তৎপরতা বাংলাদেশের! বসছে শক্তিশালী রাডার
পুলিশের চার্জশিটে কী কী তথ্য উঠে আসছে?
উল্লেখ্য, তদন্তকারী অফিসারের ঘটনার মাত্র ৫৮ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ করেছিলেন। তবে সেখানে মোট ৮৩ জনের সাক্ষীর নাম রয়েছে। আর চার্জশিট অনুযায়ী ঘটনার বিবরণ একেবারে শিউরে ওঠার মতো। হ্যাঁ, অভিযোগ ওঠে—মনোজিৎ মিশ্র ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে সেই দৃশ্য মোবাইলে রেকর্ড করেছিল। তারপর সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়েই তাঁকে ধর্ষণ করে। এমনকি অন্য দুই অভিযুক্ত জায়েব ও প্রমিত গার্ডরুমের এক্সহস্ট ফ্যানের ফাঁকা দিয়ে পুরো ঘটনার ভিডিও তুলেছিল। আর সেই ভিডিও অন্যদের পাঠিয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। এদিকে চার্জশিট অনুযায়ী, নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায় সব দেখেও কোনও রকম বাধা দেয়নি। উল্টা সে তালা বন্ধ করে ইউনিয়নের রুমে বসেছিল। এমনকি একদিন সময় পেয়েও পুলিশ বা কর্তৃপক্ষকে কিছু জানায়নি সে।










