“বেবি আর আন্টি দু’জনের ভাব…” তৃণমূল-সিপিএমকে একাসনে বসিয়ে তোপ শুভেন্দুর

Published:

suvendu-adhikari

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে নতুন করে সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছে বিরোধী শিবিরগুলি। একসময় যে তৃণমূল কংগ্রেস বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করেই নিজেদের রাজনৈতিক জমি শক্ত করেছিল, বর্তমানে সেই তৃণমূলকেই বামেদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) নিয়ে বিরোধী দলগুলির যৌথ অবস্থান এবং দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই গড়বেতার (Garbeta) সভা থেকে তৃণমূল (Trinamool Congress) ও সিপিএমকে (Communist Party of India Marxist) একযোগে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

তৃণমূলের নির্বাচনী ধাক্কার পর বিরোধী দলগুলির সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে একসময় তৃণমূলের উত্থান, সেই বামেদের সঙ্গেই এখন রাজনৈতিক সমন্বয় তৈরি হচ্ছে। দিল্লিতে বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে মমতা ব্যানার্জি ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির উপস্থিতি এবং তাঁদের সৌজন্য বিনিময়কেই এই আক্রমণের অন্যতম হাতিয়ার করেছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূল ও বামেদের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে এখন আর কোনও পার্থক্য নেই।

এই প্রসঙ্গেই মমতা ব্যানার্জি ও এম এ বেবিকে নিয়ে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “আগামী দিনে কলকাতা-হাওড়া পুরসভা নির্বাচনেও দেখবেন মমতা-তৃণমূল আর তাদের বন্ধু, লাল পার্টি, যারা ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদেরকেও মানুষ ধুয়েমুছে সাফ করে দেবে। একটি বিশেষ গোষ্ঠীর লোকেরা যেখানে অত্যাচার করেছে, সেই লোকেরা এখন জামাবদল করে লাল জামা পরার চেষ্টা করছেন। কারণ আজ দিল্লিতে বেবি আর আন্টি দু’জনের ভাব হয়ে গিয়েছে। আন্টি মানে কে জানেন তো! একটাই আন্টি পিসি। আর সিপিএম-এর সর্বভারতীয় সম্পাদক এমএ বেবি…এই দু’জনের এখন ভাব-ভালোবাসা হয়ে গিয়েছে।” এখানে ‘আন্টি’ বলতে মমতা এবং ‘বেবি’ বলতে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিকে বুঝিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, রাজনৈতিক বিরোধিতা ভুলে দুই শিবিরের কাছাকাছি আসাকেই কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু।

অন্যদিকে, গড়বেতার সভা থেকে অতীতের রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় ঝাড়গ্রামের বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডুর উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর মামলার এফআইআরের কপি চেয়ে পাঠান তিনি। ওই ঘটনায় কতজন গ্রেফতার হয়েছেন, আর কতজন এখনও অধরা, তা খতিয়ে দেখার কথাও জানান। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, “যাঁরা গ্রেফতার হয়নি প্রত্যেককে চুলের মুঠি ধরে ঢোকাতে হবে। আমাদের সব হিসাব নেওয়ার সময় এসেছে।” পাশাপাশি চন্দ্রকোনা রোডে নিজের উপর অতীতে হামলার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

আরও পড়ুন: “অসম্পূর্ণ SIR” ভোটার তালিকা থেকে আরও নাম বাদ যেত বলে আশাবাদী শমীক

এদিনের সভায় শুধু তৃণমূল নয়, সিপিএমকেও পুরনো রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে নিশানা করেন শুভেন্দু। ছোট আঙারিয়া থেকে নন্দীগ্রামের ‘অপারেশন সূর্যোদয়’, অতীতের একাধিক ঘটনার মামলা নতুন করে খোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গড়বেতার সিপিএমের পার্টি অফিস থেকেই নন্দীগ্রামে হামলার জন্য অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে মহম্মদ সেলিমের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি কলকাতা ও হাওড়ার পুরসভা নির্বাচনেও তৃণমূল ও বামেরা কোনও আসন পাবে না বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

google button