বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গত 4 মে দুপুর 12 টার পর থেকেই পরিষ্কার হতে শুরু করেছিল বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। দ্রুততার সাথে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে (Trinamool Congress) ছাপিয়ে আসন সংখ্যায় এগিয়ে চলেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। শেষ পর্যন্ত 208টি আসন নিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলার সিংহাসনে বসে নরেন্দ্র মোদির দল। আর এই পালাবদলের পরই একপ্রকার ভেঙে যাওয়ার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। খোদ দলের বিধায়ক, নেতাকর্মীরাই ক্ষিপ্ত। এমতাবস্থায় এবার আরও বড় ধাক্কা খেতে চলেছে তৃণমূল! এবার কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) হাতছাড়া হওয়ার পথে। পদত্যাগ করতে চলেছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ!
কলকাতা পুরসভাও হাতছাড়া হচ্ছে তৃণমূলের!
গোটা রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা হারানোর পরই ঝুলি থেকে বেরোতে শুরু করেছে গল্পের বেড়াল। একে একে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূলের, প্রাক্তন নেতা-মন্ত্রীরা। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 17 সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। আর তাতেই দলের অন্তরে বেড়েছে অস্বস্তি।
সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত 9 নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন দেবলীনা বিশ্বাস। এখানেই শেষ নয় দেবলীনার পর বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন কসবার 108 নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষও। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন তৃণমূলের দক্ষিণ কলকাতার পরিচিত কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। এমতাবস্থায়, কলকাতা পুরসভার গোটা মেয়র পারিষদ এক প্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অবশ্যই পড়ুন: ঘরেই বিদেশ সফর! ভারতে টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে T20 সিরিজের আয়োজক আফগানিস্তান
নির্বাচনের তৃণমূল কংগ্রেসের বেহাল অবস্থার কারণে পুরসভার মেয়র ফিরাধ হাকিমের সাথে দূরত্ব বেড়েছে অনেকের। আর সে কারণেই এবার পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত গোটা বোর্ড আর কতদিন স্থায়ী থাকবে তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আর সেই পরিস্থিতিতে শোনা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই গোটা কলকাতা পৌরসভা হাতছাড়া হতে পারে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের। আসলে বর্তমানে খাতায়-কলমে পুরসভা তৃণমূলের থাকলেও আদতে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলের কোনও ক্ষমতাই কার্যকর হচ্ছে না।










