প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে শুরু প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। ১৬ জেলায় ১৫২ টি আসনে যাতে নিরাপদে সুষ্ঠু ভোট হয় তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলায়। আর এই ভোট উৎসবের আবহে ওয়াকফ হিংসার (Waqf Violence) ‘বদলা’ নিতে ভোট দিল হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসের পরিবারের সদস্যরা।
ওয়াকফ হিংসায় প্রাণ গিয়েছিল বাবা-ছেলের
গত বছর, সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছিল গোটা মুর্শিদাবাদ। ভয়ংকর হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল জঙ্গিপুরের শমসেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ানের মতো অঞ্চলে। সেই সময় এই অশান্তিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন শমসেরগঞ্জের বাবা এবং ছেলে হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাস। অভিযোগ, ঘরের ভিতর থেকে বাবা-ছেলেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। ভয়ংকর এই ঘটনায় রীতিমত ভেঙে পড়েছিল গোটা পরিবার। বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। শেষে অভিযুক্ত ১৩ জনকে গত বছরের ডিসেম্বরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল জঙ্গিপুর আদালত। আর এবার সেই ঘটনার ‘বদলা’ নিতে ভোট দিলেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
ভোট দিল হরগোবিন্দ ও চন্দন দাসের পরিবার
রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, বৃহস্পতিবার, রাজ্যের প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনে সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে লক্ষাধিক ভোটারের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। আর সেই ভোট উৎসবের মধ্যেই আজ সকালে ভোট দিলেন মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জের ওয়াকফ হিংসায় নিহত হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাসের পরিবারের সদস্যেরা। তাঁদের চোখে মুখে যেন ফুটে উঠছে প্রতিবাদী মনোভাব। কারণ এই ব্যালট যুদ্ধে ভোটদানের মাধ্যমেই তাঁরা ওয়াকফ হিংসার ‘বদলা’ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। যদিও কিছুদিন আগেই শমসেরগঞ্জের ধুলিয়ানে বিজেপির মহিলা মোর্চার একটি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৃত হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের স্ত্রী পারুল দাস ও পিঙ্কি দাস।
আরও পড়ুন: ভোটের দিন শহরে মোদী-শাহ, যান নিয়ন্ত্রণে বন্ধ বহু রাস্তা, তালিকা দিল কলকাতা পুলিশ
সূত্রের খবর, বিজেপি মহিলা মোর্চার ওই সম্মেলন অনুষ্ঠানে মৃত হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের স্ত্রী পারুল দাস ও পিঙ্কি দাসকে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছিল মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে। সেই সময় তাঁরা বলেছিলেন , “বিজেপি প্রথম থেকেই আমাদের সঙ্গে ছিল। আমাদের পাশে থেকে সবরকম সহযোগিতা করেছে। এখনও আমাদের পাশে আছে। তাই বিজেপির আমন্ত্রণে এসেছি।” যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি যে তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করেছেন। জানা গিয়েছে, মৃতদের পরিবার বাম কর্মী-সমর্থক ছিলেন। তাই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে।










