অম্বুবাচী ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন দিনক্ষণ, সময়সূচি ও আচারবিধি

Published:

Ambubachi 2026

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি হল অম্বুবাচী। প্রতি বছর আষাঢ় মাসে এই উৎসবটি পালিত হয়। কিন্তু এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে অম্বুবাচী কত তারিখে পড়ছে (Ambubachi 2026)? কী রয়েছে দিনক্ষণ আর তিথি নক্ষত্র? কীভাবেই বা পালন করবেন এই অম্বুবাচী তিথি? আসলে এই বিশেষ সময়কে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভক্তি, আচার এবং সাধনার বিশেষ পরিবেশ দেখা যায়। তাই ২০২৬ সালের অম্বুবাচী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে জেনে নিন।

অম্বুবাচী ২০২৬ দিনক্ষণ | Ambubachi 2026 Date And Time |

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে অম্বুবাচী তিথি শুরু হচ্ছে ২২ জুন সোমবার, এবং অম্বুবাচী তিথি শেষ হচ্ছে ২৬ জুন শুক্রবার। আমরা যদি বাংলা ক্যালেন্ডার দেখি, তাহলে এই তিথি শুরুর দিন পড়ছে আগামী ৬ আষাঢ় এবং তিথি শেষ হচ্ছে ১০ আষাঢ়।

  • অম্বুবাচী তিথি শুরু হচ্ছে ২২ জুন রাত ৭:৩৮ মিনিটে।
  • অম্বুবাচী তিথি শেষ হচ্ছে ২৬ জুন রাত ১০:৫৭ মিনিটে।

অর্থাৎ, এই তিনদিন ধরেই বিশেষ তিথি পালিত হবে।

অম্বুবাচী পালন করার কারণ

লোক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় ধরিত্রী বা পৃথিবী মাতাকে ঋতুমতী বলে মনে করা হয়। আর আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৃথিবী মাতার উর্বরতা সূচনা হয় বলেই ধর্মীয় মতে বিশ্বাস করা হয়। এমনকি অনেকের মতে, যেমন ঋতুমতী নারী সন্তান ধারণে সক্ষম হন, ঠিক তেমনই অম্বুবাচীর পর ধরিত্রী নতুন ফসল আর জীবনের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠেন। সেই কারণে এই তিথিকে প্রকৃতি আর সৃষ্টির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত বলেই অনুমান করা হয়।

অম্বুবাচীতে কামাখ্যা মন্দিরে বিশেষ উৎসব

কিন্তু হ্যাঁ, অম্বুবাচী উপলক্ষে সবথেকে বড় উৎসব আয়োজন করা হয় অসমের কামাখ্যা মন্দিরে। এই সময়টিতে বিশেষ পূজো অনুষ্ঠিত হয়, সাধনার আয়োজন চলে, এমনকি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু সন্ন্যাসীরা উপস্থিত হন, হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরে দর্শনের জন্য ভিড়ও জমান। ধর্মীয় মতে, এই কয়েকদিন দেবী কামাক্ষা ঋতুমতী অবস্থাতে থাকেন। সেই কারণে মন্দিরের গর্ভগৃহ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

অম্বুবাচীর সময় কী কী কাজ এড়িয়ে চলতে হয়?

অম্বুবাচীর এই তিনদিন অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। প্রথমত, এই সময় কোনও শুভ কাজ করা যায় না। দ্বিতীয়ত, গাছ লাগানো কিংবা গাছ উপড়ে ফেলা নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। তৃতীয়ত, কৃষিকাজ বন্ধ রাখতে হয়। চতুর্থত, অনেক সাধু কিংবা ব্রত পালনকারী ব্যক্তি বিশেষ আচার মেনে চলেন এই দিনগুলিতে। বিশ্বাস করা হয়, এই সময় মাটি খোঁড়া বা কৃষিকাজ করলে ধরিত্রী মাতা কষ্ট পান।

তবে হ্যাঁ, অম্বুবাচী তিথি শেষ হওয়ার পর পুনরায় মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান, চাষাবাদ বা গৃহস্থলীর শুভ কাজ করতে হয়। আর ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকে অম্বুবাচী শুধুমাত্র যে একটা তিথি এমনটা নয়, বরং প্রকৃতির সৃষ্টি এবং মাতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও বহু মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে এই দিনগুলির।

আরও পড়ুন: লোকনাথ বাবার তিরোধান দিবস কবে? জেনে নিন পুজোর নিয়মকানুন

অম্বুবাচীর আরও কিছু রীতিনীতি

বিশ্বাস করা হয় যে, ঋতুকালে মেয়েরা অশুচি থাকেন। সেই কারণে পৃথিবীও এই সময়কালে অর্থাৎ এই তিনদিন অশুচি অবস্থায় থাকে। সেই জন্য এই তিনদিন ব্রহ্মচারী, সাধু সন্ন্যাসী বা বিধবা মহিলারা অশুচি পৃথিবীর উপর আগুনে রান্না করে কিছু খাবার খান না। তাঁরা বিভিন্ন ফলমূল খেয়েই এই দিনগুলি কাটান। এমনকি বিভিন্ন পরিবারের বয়স্ক ও বিধবা মহিলারা তিনদিন ধরে এই অম্বুবাচী উপলক্ষে ব্রত পালন করে থাকেন। তারপর তিথি শেষ হলে জামাকাপড়, বিছানা সবকিছু ভালোভাবে ধুয়ে নেন। সবথেকে বড় ব্যাপার, অম্বুবাচী চলাকালীন বিভিন্ন মন্দির, বাড়ির ঠাকুর ঘরের মাত্রীয় শক্তির প্রতিমাগুলিকে কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।