সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে বিশ্বকর্মা পূজা কত তারিখে (Vishvakarma Puja 2026)? প্রতিবছর ভাদ্র মাসে শ্রম, দক্ষতা এবং কারিগরদের প্রতীক হিসেবে এই বিশ্বকর্মা পূজা আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে যন্ত্রবিদ, নির্মাতা এবং কারিগররা এই দিন নিষ্ঠার সঙ্গে বিশ্বকর্মা পূজা পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানা, কর্মশালা, অফিস কিংবা বাড়িতে এই পূজার আয়োজন করা হয়। তবে এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে এই পূজার দিনক্ষণ, তিথি নক্ষত্র এবং পূজার নিয়মকানুন কী রয়েছে তা জানতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
বিশ্বকর্মা পূজা কেন করা হয়?
দুর্গাপূজার আগে হিন্দু ধর্মের মধ্যে বিশ্বকর্মা পূজা পালিত হয়। বিশেষ করে ভাদ্র মাসের শেষ দিনে এই পূজা হয়। কিন্তু এই পূজার পিছনে অনেক মাহাত্ম্য রয়েছে। হিন্দু ধর্ম এবং প্রকৌশল দেবতা বাবা বিশ্বকর্মার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এবং কর্মক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, কলকব্জা বা কাজের সফলতা কামনার কারণেই প্রতিবছর বিশ্বকর্মা পূজা পালিত হয়। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী, ভগবান বিশ্বকর্মাকে মহাবিশ্বের মূল স্থাপতি এবং কারিগর হিসেবে তুলে ধরা হয়। এমনকি তিনি স্বর্গের দেবালয়, লঙ্কা নগরী, কৃষ্ণের দ্বারকা নগরী এবং বিভিন্ন দিব্যস্ত্র তৈরি করেছিলেন বলেই বিশ্বাস করা হয়।
বিশ্বকর্মা পূজা ২০২৬ কত তারিখে? (Vishvakarma Puja 2026)
প্রতি বছরই বাংলা ক্যালেন্ডারের ভাদ্র মাসের শেষ দিনে আড়ম্বরের সঙ্গে এই বিশ্বকর্মা পূজা আয়োজন করা হয়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের বিশ্বকর্মা পূজা পড়ছে—
- ইংরেজি ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার।
- তবে বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই দিনটি পড়ছে ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩।
বিশ্বকর্মা পূজা ২০২৬ একনজরে
|
বিষয় |
তথ্য |
|
উৎসবের নাম |
বিশ্বকর্মা পূজা ২০২৬ |
|
বাংলা তারিখ |
৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ |
| ইংরাজি তারিখ |
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
| বিশেষ বৈশিষ্ট্য |
কারিগর, শ্রমিক, যন্ত্রবিদদের পূজা |
| কোথায় পালিত হয় |
পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা ভারতবর্ষে |
কোথায় পালিত হয় বিশ্বকর্মা পূজা?
হিন্দু ধর্মে বিশ্বকর্মা পূজা মূলত কারখানা, বিভিন্নরকম শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পালিত হয়। প্রায়ই দোকানের মেঝেতে এই পূজার আয়োজন করা হয়। এমনকি বিশ্বকর্মার মূর্তি বসিয়ে এই পূজা করা হয়। দোকান কিংবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মী একসঙ্গে জড়ো হয়েই এই পূজায় অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে কারিগর, সুতার মিস্ত্রি, কামার, কুমোর, শিল্প কর্মী, স্বর্ণকার, কারখানা শ্রমিক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খেটে খাওয়া মানুষজন এই পূজা করেন। উন্নত ভবিষ্যতের জন্য, নিরাপদ কাজের পরিস্থিতি আর কর্মক্ষেত্রে উন্নতি লাভের প্রার্থনাতেই এই পূজার আয়োজন করা হয়।
বিশ্বকর্মা পূজার তিথি-নক্ষত্র
জানিয়ে রাখি, হিন্দু ধর্মে সমস্ত দেব-দেবীর পূজার তিথি চাঁদের গতিবিধির উপর নির্ভর করেই স্থির হয়। কিন্তু বিশ্বকর্মা পূজার তিথি নির্ধারণ করা হয় সূর্যের গতিবিধির উপর নির্ভর করে। সূর্য যখন সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে গমন করে, তখন শুরু হয় সূর্যের উত্তরায়ণ। আর এই তিথিতেই বিশ্বকর্মা পূজার আয়োজন করা হয়। তবে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত এবং সূর্য সিদ্ধান্ত দুই পঞ্জিকা অনুযায়ী, বিশ্বকর্মা পূজা প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয়। কারণ, এই দিনটিতে কন্যা রাশিতে গোচর করে সূর্য।
বিশ্বকর্মা পূজার (Vishwakarma Puja) সাথে অরন্ধনের সম্পর্ক
জানিয়ে রাখি, হিন্দু ধর্মে আবার বিশ্বকর্মা পূজার সঙ্গে বেশ কিছু আচার যুক্ত হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অরন্ধন। ভাদ্র সংক্রান্তির এই বিশেষ দিনটিতে অর্থাৎ বিশ্বকর্মা পূজার দিন অরন্ধন পালিত হয়। এই দিনটিকে মূলত একটি ব্রত হিসেবে পালন করা হয়। এদিন উনুন জ্বালানো নিষিদ্ধ হিন্দু ধর্মের মধ্যে। এমনকি কোনও রকম রান্না করা যায় না। অনেকেই এদিন পান্তা খেয়ে দিন কাটান। তবে এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে আবার বিশ্বকর্মা পূজার কোনও সম্পর্ক নেই।
আরও পড়ুন: রাখি পূর্ণিমা ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন রাখি বন্ধনের নিয়মকানুন ও সময়সূচি
বিশ্বকর্মা পূজার আচার অনুষ্ঠান
হিন্দু ধর্মে বিশ্বকর্মা পূজা অত্যন্ত উৎসাহ এবং উদ্দীপনার সঙ্গেই পালন করা হয়। এদিন শিল্পীরা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে তাদের কর্মস্থল, যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম পরিষ্কার করে সাজিয়ে তোলেন। পাশাপাশি প্রথাগত নিয়মে বৈদিক মন্ত্র পাঠ, এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমেই ভগবান বিশ্বকর্মার পূজার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ভগবান বিশ্বকর্মাকে এদিন ফুলের মালা, ফল এবং মিষ্টি নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি দেবতার উদ্দেশ্যে ভক্তিগীতি বা হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে—
- এই দিন কর্মস্থল, মন্দির স্থানে পূজা বা আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
- আগের দিন রাতে দেবতার বিদ্রোহ এবং পূজার সামগ্রী জোগাড় করে রাখতে হয়।
- পূজার দিন সরঞ্জামগুলি পরিষ্কার করে পূর্ব দিকে মুখ করে বসতে হয়।
- এরপর বিশ্বকর্মার মন্ত্র জপ করতে হয়।
- এরপর প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করতে হয়।
- এরপর ঘরে যে সমস্ত যন্ত্রপাতিগুলি রয়েছে, সেগুলিতে চন্দন লাগাতে হয় এবং পূজা করতে হয়।
- এমনকি সৌভাগ্যের জন্য মেশিনগুলিতে কিছুটা হলুদ এবং সিঁদুর লাগাতে পারেন।
- এবার ভগবান বিশ্বকর্মার কাছে প্রার্থনা করতে হবে।
- পরদিন সকালে প্রতিমাটিকে জলে ভাসিয়ে দিতে হবে।
- তবে হ্যাঁ, বিশ্বকর্মা পূজার দিন ঘুড়ি ওড়ানোর কথা প্রচলিত রয়েছে হিন্দু ধর্মের মধ্যে।










