সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে রাখি বন্ধন বা রাখি পূর্ণিমা কত তারিখে পড়ছে (Rakhi Purnima 2026)? হিন্দু ধর্মের মধ্যে রাখি পূর্ণিমার গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এই দিনটিতে বোন কিংবা দিদিরা তাদের ভাইদের মঙ্গল কামনার জন্য হাতে রাখি বাঁধেন। যদিও শুধুমাত্র ভাই-বোনের মধ্যেই এই রাখি বন্ধনের (Rakhi Bandhan) প্রথা সীমাবদ্ধ নয়, বরং এদিন যে কেউ রাখি বাঁধতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশজুড়ে ধুমধাম করে এই রাখি বন্ধন পালন করা হয়। কিন্তু এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের রাখি পূর্ণিমা কত তারিখে পড়ছে, পূর্ণিমার সময়সূচি কী রয়েছে, আর রাখি বন্ধনের মূল মাহাত্ম্য কী তা জানতে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
রাখি বন্ধন বা রাখি পূর্ণিমার (Rakhi Purnima 2026) গুরুত্ব
প্রথমেই জানিয়ে রাখি, রাধা কৃষ্ণের ঝুলন যাত্রা শেষে ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রাখি বন্ধন পালন করা হয়। এই দিনটিকে হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত শুভ বলেই মনে করা হয়। এমনকি এদিন কোনও কাজ করলে তার শুভ ফল মেলে। রাখি বন্ধনের মূল গুরুত্ব হল ভাই এবং বোনের পবিত্র ভালবাসা, পারস্পরিক সুরক্ষা এবং ভাতৃত্বের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক। এই বিশেষ দিনটিতে বোনেরা তাদের ভাইয়ের হাতের রাখি নামের পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়, এবং তাদের মঙ্গল কামনার জন্য প্রার্থনা করে। পাশাপাশি ভাই বা দাদারা এদিন বোনদেরকে আশীর্বাদ করে।
রাখি পূর্ণিমা ২০২৬ কত তারিখে?
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের রাখি পূর্ণিমা বা রাখি বন্ধন পড়ছে—
- ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২৮ আগস্ট, শুক্রবার।
- বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই দিনটি পড়বে আগামী ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩।
রাখি পূর্ণিমা ২০২৬ সময়সূচি
রাখি পূর্ণিমা ২০২৬ এর সময়সূচি রয়েছে—
- পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার, সকাল ৯:০৯ মিনিটে।
- পূর্ণিমা তিথি শেষ হচ্ছে ২৮ আগস্ট শুক্রবার, সকাল ৯:৪৮ মিনিটে।
রাখি বন্ধন ২০২৬ (Rakhi Bandhan 2026) একনজরে
|
বিষয় |
তথ্য |
|
উৎসবের নাম |
রাখি পূর্ণিমা ২০২৬ / রাখি বন্ধন ২০২৬ |
|
ইংরাজি তারিখ |
২৮ আগস্ট, ২০২৬ |
| বাংলা তারিখ |
১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ |
| পূর্ণিমা শুরু |
২৭ আগস্ট, সকাল ৯:০৯ |
| পূর্ণিমা শেষ |
২৮ আগস্ট, সকাল ৯:৪৮ |
রাখি বন্ধনের ইতিহাস
রাখি পূর্ণিমা বা এই রাখি বন্ধনের বেশ কিছু পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—মহাভারতের বিবরণ অনুযায়ী, মহাকাব্যিক যুদ্ধের আগে পাণ্ডব দেবের স্ত্রী দ্রৌপদী ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে রাখি পরিয়েছিলেন। এমনকি কুন্তী তার নাতি অভিমুন্যকেও রাখি পরিয়েছিলেন। সেখান থেকেই এই রাখি বন্ধনের উৎপত্তি। তাছাড়া আরও একটি কাহিনী অনুযায়ী, ভগবান গনেশের দুই পুত্র শুভ এবং লাভ বোন না থাকার কারণে হতাশায় ছিলেন। তারা তাদের পিতার কাছে একটি বোন চেয়েছিলেন। অবশেষে ঋষি নারদের মধ্যস্থতার মাধ্যমেই পিতা তাদের বোন দিতে রাজি হয়েছিলেন। এভাবেই গণেশ দিব্য অগ্নির দ্বারা সন্তোষী মাকে সৃষ্টি করেছিলেন। আর রাখি বন্ধন উপলক্ষে ভগবান গণেশের দুই পুত্র তাদের বোনকে রাখি পরিয়েছিলেন।
রাখি বন্ধন উৎসব উদযাপনের কারণ
আসলে ভাই এবং বোনের কর্তব্যের প্রতীক হিসেবেই এই রাখি বন্ধন বা রক্ষা বন্ধন পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনটিতে বোন তার ভাইদের সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য এবং মঙ্গল কামনার জন্য তাদের কব্জিতে রাখি বাঁধেন। এমনকি এর বিনিময়ে ভাই উপহার দেয় এবং যে কোনও পরিস্থিতিতে বোনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়। এমনকি দূর দূরান্তের পরিবারের সদস্য কিংবা যে কোনও রকম ভাবে ভাই বোনের সম্পর্ক থাকলেই হিন্দু ধর্মে এই রাখি বাঁধার প্রথা প্রচলন রয়েছে।
রাখি বন্ধনের শুভেচ্ছা
রাখি বন্ধনের এই বিশেষ দিনটিতে বোন কিংবা দিদিরা তাদের ভাই বা দাদাদের কাছে বিভিন্ন রকম শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে পারে। এমনকি উল্টোদিকে ভাইরাও তাদের বোন বা দিদিদের কাছে এই শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে পারে। যেমন—
- প্রিয় ভাই, হাজার হাজার মাইল দূরে থাকলেও আমাদের ভালবাসার বন্ধন কোনও দিন ভাঙবে না। শুভ রাখি বন্ধন।
- আমার শৈশবের সেরা বন্ধু এবং বিপদের সবথেকে বড় আস্থা দেওয়ার জায়গা তুমি। তোমাকে রাখি বন্ধনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
- তোমার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমি সাফল্য কামনা করি। শুভ রাখি বন্ধন।
- আমার জীবনের সবথেকে মিষ্টি এবং আদরের বোনকে জানাই রাখি বন্ধনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
- তুমি শুধু আমার বোন নও, আমার সমস্ত গোপন কথা রাখার বাক্স এবং বিপদের দিনের সঙ্গী। শুভ রাখি বন্ধন।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা ২০২৬ কত তারিখে? দেখুন মহালয়া থেকে দশমী অবধি দিনক্ষণ, আচারবিধি
রাখি বন্ধনের নিয়ম
রাখি বাঁধার কিছু বিশেষ নিয়মকানুন রয়েছে। যেমন—
- প্রথমেই থালা সাজাতে হয়। থালার উপরে প্রদীপ, চন্দন, মিষ্টি এবং রাখির সুতো রাখতে হয়।
- এরপর ভাইয়ের মুখ যেন দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে না হয় এরকম ভাবে বসাতে হয়। বিশেষ করে উত্তর বা পূর্ব দিকে হলেই ভালো হয়।
- এরপর প্রথমে ভাইয়ের কপালে চন্দনের তিলক দিয়ে তার উপর ধান-দূর্বা দিতে হয়।
- এরপর প্রদীপ দিয়ে ভাইকে আরতী করতে হয়।
- এরপর ভাই ডান হাতের কব্জিতে রাখি বেঁধে দিতে হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, রাখিতে তিনটি গিট দেওয়া শুভ বলে মনে করা হয়।
- রাখি বাঁধার পর ভাইকে মিষ্টিমুখ করিয়ে তার দীর্ঘায়ু এবং মঙ্গল কামনা করতে হয়। সেই সময়ই ভাই বোনকে উপহার দিয়ে পাশে থাকার বার্তা দেয়।










