চলত হাওড়া থেকে, বাতিল হল দেশের প্রথম ডাবল ডেকার ট্রেন, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে পাঠাল পূর্ব রেল

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতা: বাংলার সরকার বদল ঘটেছে বেশ কিছুটা সময় হয়ে গেল। গত কয়েক মাসে পুরনো সরকারের বহু জিনিস বাতিল হয়েছে। একের পর এক স্কিম থেকে শুরু করে বিশ্ব বাংলা লোগো, অনেক কিছুই সরেছে। তবে এবার কিনা বাতিলের খাতায় চলে গেল আস্ত একটি ট্রেন। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। শেষ পর্যন্ত বাতিলের খাতায় চলেছে গেল দেশের প্রথম এসি ডাবল ডেকার ট্রেন (AC Double Decker Train)। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এই ট্রেনটি চালুর জন্য। তবে এবার তা বাতিল করে দেওয়া হল। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

এবার বাতিলের খাতায় দেশের প্রথম ডাবল ডেকার ট্রেন

মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই ডাবল ডেকার ট্রেনের প্রস্তাব দেন। পরে ২০১১ সালের ১ অক্টোবর দীনেশ ত্রিবেদীর হাত ধরে চালু হয় হাওড়া-ধানবাদ ডাবল ডেকার সুপারফাস্ট। তবে এবার এটিকে বাতিল করে দেওয়া হল। এখন এটির গন্তব্য হতে চলেছে পূর্ব রেলের (Eastern Railways Zone) স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, এটি বাতিল করা হবে। আর চালানোর কোনও প্রস্তাব নেই। জানলে অবাক হবেন, এত সুন্দর এবং ভিনটেজ দেখতে ট্রেনটিকে নিয়ে কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি রেলকে।

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ভুগিয়েছে রেলকে!

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রেলের বড় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছিল ট্রেনটি। তবে আর নয়, এবার একদম ট্রেনটিকে পরিত্যক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৫ ডিসেম্বর হাওড়া থেকে দেশের প্রথম এসি ডবল ডেকার ট্রেনটির ঘন্টায় ১১০ কিমি গতিবেগে ট্রায়াল রান করানো হয়। হাওড়া-ধানবাদ রুটে (Howrah Dhanbad Train) চালানো হয় ট্রেনটিকে। কিন্তু শুরু থেকেই বিপত্তি!

আরও পড়ুনঃ UPSC-র জন্য ছেড়েছেন গুগলের মোটা বেতনের চাকরি, বিনা কোচিংয়ে র‍্যাঙ্ক ১, আজ IAS অনুদীপ

মশাগ্রাম, শক্তিগড়, বর্ধমান ও দুর্গাপুরের প্ল্যাটফর্মে কামরা ঘষা খেত। সেইসময়ে প্রায় ২০টি স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের ধার ৪–৬ ইঞ্চি কেটে ফেলতে হয়। কোথাও কোথাও ওভারহেড তারের উচ্চতা বাড়াতে হয়। পরবর্তীকালে ট্রেনের গতি কমিয়ে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সর্বোপরি অতিরিক্ত খরচ হলেও যাত্রীসংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। প্রতি কামরায় ১২০টি আসন থাকা সত্ত্বেও যাত্রী মিলত মাত্র ১৫–২০ শতাংশ। ২০১৬ সালের ছট পুজোর সময় ট্রেনটি ফের চালু করা হলেও সেদিন যাত্রী হয়েছিলেন মাত্র ২৮ জন। এরপর নামমাত্র টিকিট বিক্রি হওয়ায় ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় পরিষেবা। তবে এবার এই ট্রেনের পাকাপাকি ঠিকানা হতে চলেছে রেলের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড-এ।