অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে সরকার ক্রমাগত ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির প্রচার করছে। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ই২০ (E20) পেট্রোল-ইথানল ব্লেন্ড ফিউল চালু হয়েছে। এখন বাজারে ই১০০ (E100) বা ১০০% ইথানল-চালিত যানবাহন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। লক্ষ লক্ষ গাড়ির মালিকরা ভাবছেন যে তাদের বর্তমান পেট্রোল গাড়িগুলো এই নতুন জ্বালানিতে চলতে পারবে, এই জ্বালানির জন্য নতুন গাড়ি কিনতে হবে। এই আবহেই সামনে এল এমন এক প্রযুক্তি, যা ইঞ্জিন না বদল করেই পুরোনো পেট্রোল গাড়িগুলোকে ই১০০ ইথানল দিয়ে চালাতে পারে। আসুন এই প্রযুক্তির বিষয়ে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
ফ্লেক্স-ফুয়েল কনভার্সন কিট (Flex-Fuel Conversion Kit) নিয়ে শুরু হয়েছে পরীক্ষা
ভারতে একটি বিশেষ ফ্লেক্স-ফুয়েল কনভার্সন কিট নিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এই কিটটি গাড়ির ইঞ্জিন পুরোপুরি পরিবর্তন করার বদলে, ফুয়েল সিস্টেম এবং ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে গাড়ি ট্যাঙ্কে পেট্রোল আছে না ইথানল আছে, তা শনাক্ত করতে পারে।
আইএসএমএ (ISMA) এবং আইআইটি দিল্লি (IIT Delhi) যৌথভাবে ফ্লেক্স-ফুয়েল কনভার্সন কিট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। এই পরীক্ষাটি একটি বিএস৪ মারুতি সুজুকি সুইফট এবং একটি বিএস৬ মারুতি ডিজায়ারের ওপর করা হয়। বিশুদ্ধ ইথানল জ্বালানি দিয়ে করা এই পরীক্ষায় দেখা গেছে বিএস৬ গাড়িটি ৫ হাজার কিলোমিটার এবং বিএস৪ গাড়িটি ১ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে ফ্লেক্স-ফুয়েল কনভার্সন কিট?
ই১০০ জ্বালানি সাধারণ পেট্রোলের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা। এর ভিন্ন রাসায়নিক গঠনের কারণে এটিকে পোড়াতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। এটি আর্দ্রতাও আকর্ষণ করে, যা গাড়ির সিল, ফুয়েল লাইন এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশকে প্রভাবিত করতে পারে। এই কারণেই পেট্রোল চালিত গাড়ি সরাসরি ই১০০-এ চলতে পারে না। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতেই হয়।
পরীক্ষার পর্যায়ে থাকা এই কনভার্সন কিটটিতে সেন্সর এবং ইলেকট্রনিক মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে, যা জ্বালানির গুণমান এবং এতে থাকা ইথানলের পরিমাণ শনাক্ত করে। এরপর ইঞ্জিন কন্ট্রোল ইউনিট (ECU) সেই অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ এবং দহনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে গাড়িটি পেট্রোল এবং ইথানল – দুই ধরনের জ্বালানিতেই চলতে সক্ষম হয়। অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই প্রযুক্তিটি যদি ব্যাপকভাবে সফল হয়, তবে বর্তমান পেট্রোল গাড়ির মালিকদের আর নতুন ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি কেনার প্রয়োজন হবে না। মানুষ কম খরচে তাদের পুরোনো গাড়িকেই আপগ্রেড করে নিতে পারবে।
আরও পড়ুনঃ ফুল ট্যাংকে চলবে ১,০০০ কিমির বেশি, ভারতে আসছে Honda-র নয়া গাড়ি, দাম কত?
প্রসঙ্গত ইথানল জ্বালানির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি আখ, ভুট্টার মতো কৃষিজাত পণ্য থেকে তৈরি করা হয়। এর ফলে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশের ক্ষতিও কমানো সম্ভব হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা এও বলেছেন যে, সম্পূর্ণভাবে ই১০০-তে রূপান্তরের জন্য জ্বালানি বণ্টন ব্যবস্থা, যানবাহনের প্রযুক্তি ও সার্ভিস নেটওয়ার্কে একাধিক পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে।










