জোট বাঁধল Vi ও BSNL! আরও শক্তিশালী হবে পরিকাঠামো

Published:

Vi BSNL Network Sharing

অনন্যা সরকার, কলকাতা: রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio) এবং ভারতী এয়ারটেল (Bharti Airtel)-এর পর ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম টেলিকম সংস্থা ভোডাফোন-আইডিয়া (Vi) এবং ভারত সরকারের অধীনস্থ বিএসএনএল (BSNL) তাদের নেটওয়ার্ক পরিকাঠামো ভাগাভাগি করে পরিচালনা করার জন্য হাত মিলিয়েছে (Vi BSNL Network Sharing) । অর্থাৎ, এখন থেকে সংস্থা দুটি একে অপরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে। এটি দেশের টেলিকম সেক্টরের জন্য একটি বড় পরিবর্তন হতে চলেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সংস্থা দুটি এতদিন সীমিত পরিসরে একে অপরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আসছিল, কিন্তু এখন এই চুক্তিটি দেশের সমস্ত টেলিকম সার্কেলে সম্প্রসারিত হতে চলেছে।

ভি এবং বিএসএনএল-এর এই চুক্তির ফলে কী বদল দেখা যেতে পারে?

এই চুক্তির ফলে শুধু উভয় কোম্পানির নেটওয়ার্কই শক্তিশালী হবে ও সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে তাই নয়, তার সাথে জিও এবং এয়ারটেলের সাথেও টক্কর বাড়বে। বর্তমানে এই দুই কোম্পানি ভারতের টেলিকম ক্ষেত্রটি নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং, ভি এবং বিএসএনএল-এর মধ্যে এই পার্টনারশিপ দুই শীর্ষস্থানীয় সংস্থার দ্বৈত আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হবে।

সূত্র মারফৎ জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভিআই-এর সিইও অভিজিৎ কিশোর এবং বিএসএনএল-এর চেয়ারম্যান রবার্ট জে. রবির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকেই নেটওয়ার্ক পরিকাঠামো শেয়ারিং চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই নেটওয়ার্ক শেয়ারিং চুক্তিটি বিএসএনএল এবং ভিআই উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএসএনএল-এর গ্রাহকরা এবার থেকে ভিআই-এর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন। দুই কোম্পানির মধ্যে একটি রেভিনিউ-শেয়ারিং মডেলও চালু করা হবে, যার ফলে ভি ও বিএসএনএল উভয় সংস্থাই একে অপরের গ্রাহকদের কাছ থেকে উপার্জন করতে পারবে। 

আরই পড়ুন: নেপালের বন্যায় বেরিয়ে এল ১৭ কোটি বছরের প্রাচীন শালগ্রাম শিলা? জানুন আসল ঘটনা

তবে জানিয়ে রাখি, এই অংশীদারিত্ব নতুন নয়। এতদিন দিল্লি এবং মুম্বাইয়ের মতো টেলিকম সার্কেলগুলিতে বিএসএনএল এবং ভিআই-এর মধ্যে ইন্ট্রা-সার্কেল রোমিং সার্ভিস চালু ছিল। বিএসএনএল ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভি-কে ১,৪৪১টি টাওয়ার লিজ দেয়। এখন, এই আঞ্চলিক পার্টনারশিপ দেশজুড়ে সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, বিএসএনএল এবং ভিআই-এর এই অংশীদারিত্ব খরচসাপেক্ষ রিচার্জ প্ল্যানগুলো থেকে গ্রাহকদের কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখিত তথ্য থেকে আশা করা হচ্ছে যে, এই অংশীদারিত্বের ফলে বিএসএনএল-এর নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেটের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। তাই সাধারণ গ্রাহক কম খরচে ভালো সুবিধা পেতে এয়ারটেল ও জিও-র পরিবর্তে ভি এবং বিএসএনএল-কে বেছে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন: বক্স অফিসে বিপুল সাড়া “হনুমান অংশ”-র, কত আয় হল?

যদিও, বর্তমানে ভিআই-এর নেটওয়ার্ক এয়ারটেল এবং জিও-র চেয়ে দুর্বল, এবং এখনও ভিআই-এর দেশব্যাপী কোনো ৫জি নেটওয়ার্ক নেই। বিএসএনএল-এর লক্ষ লক্ষ টাওয়ারের সাহায্যে ভিআই তাদের নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে, ফলে প্রতিযোগিতা আর কঠিন হবে। বিশেষজ্ঞরা এও দাবি করছেন যে, গ্রাহকদের ধরে রাখার জন্য এয়ারটেল এবং জিও হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আরও কম মূল্যের কলিং প্ল্যান চালু করার কথা বিবেচনা করবে। এর ফলে গ্রাহকদের আরও বেশি বিকল্প পাবেন, যা দেশের টেলিকম ক্ষেত্রেকেই আরও শক্তিশালী করবে। 

উল্লেখ্য, এখনও বিএসএনএল তাদের ৫জি পরিষেবা চালু করতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক এই চুক্তি এর পথ প্রশস্ত করবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ভি বর্তমানে দ্রুতগতিতে তাদের ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে। তাই ভবিষ্যতে পার্টনারশিপের মাধ্যমে বিএসএনএল ভি-এর নেটওয়ার্ক থেকে সুবিধা পেতে পারে, যার ফলে সরকারি টেলিকম সংস্থার ৫জি পরিষেবাও সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়ে উঠবে।

আরও BSNL Vodafone Idea