মিলবে অতিরিক্ত টাকা, আবাস নিয়ে সুখবর শোনাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

Published:

Awas Yojana

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত বৃহস্পতিবারই আবাস প্রকল্পে (Awas Yojana) দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকানো হল উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। রাজ্যের প্রায় ১০ লক্ষ পরিবারের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকেছে টাকা। এই প্রকল্পে উপভোক্তারা মোট ৬০০০০ টাকা করে পাবেন। তবে এই অনুদান ছাড়াও উপভোক্তাদের কথা ভেবে আরও বেশ কিছু সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা নিয়ে আনলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অন্যদিকে রাজ্যের প্রকৃত গৃহহীনদের চিহ্নিত করতে জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে ‘আবাস প্লাস সমীক্ষা’ (Awas Plus Survey)।

১০ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

এইমুহুর্তে রাজ্যজুড়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ অর্থাৎ আগের নাম ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় প্রথম কিস্তির পর লিন্টন পর্যন্ত কাজ শেষ করা ১০ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে, বাড়ি তৈরিতে আবাস যোজনার টাকা ছাড়াও আরও টাকা পেতে চলেছেন উপভোক্তারা, এমনই বার্তা দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত বৃহস্পতিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী জানান, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের বেশ কিছু সুযোগ করে দিয়েছেন। বিকশিত ভারত জিরামজি। এখানে কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনারা জিরামজি থেকে ম্যানপাওয়ার পেতে পারেন।”

দেওয়া হবে অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আবাসন নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে শৌচালয় তৈরির উদ্দেশ্যে ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এর আওতায় অতিরিক্ত ১২,০০০ টাকা দেওয়া হবে। এবং তপশিলি জাতি, উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত আবেদনকারীদের জন্য ১৫,০০০ টাকার বিশেষ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। অন্যদিকে রাজ্যের প্রকৃত গৃহহীনদের চিহ্নিত করতে জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে ‘আবাস প্লাস সমীক্ষা’। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ-এর আওতায় রাজ্যজুড়ে বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই সমীক্ষার কাজ চালানো হচ্ছে। কোনও যোগ্য পরিবার যাতে আবাসন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা সুনিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আরও বিপুল সংখ্যক পরিবারের জন্য পাকা ছাদের ব্যবস্থাও শুরু হয়ে গেছে।

সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে হবে তালিকা যাচাই

ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রায় ২০ লক্ষ সম্ভাব্য সুবিধাভোগীকে আবাস প্লাসের সমীক্ষার আওতায় চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে এই চূড়ান্ত সমীক্ষা রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই পরবর্তী আর্থিক সাহায্য বরাদ্দ করা হবে। এর আগে অতীতে আবাসন যোজনায় ভুয়ো ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম থাকা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। নেতা মন্ত্রীদের তোলাবাজির অভিযোগও উঠেছে। তাই নতুন সরকার আসতেই সেই দুর্নীতি রুখতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, এবার সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে তালিকা যাচাই করতে হবে। সেই কারণে নথিপত্র এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘স্বরূপ বিশ্বাস শ্লীলতাহানি করেননি’.. লাইভে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন অভিযোগকারিণী

নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা মন্ত্রিসভা বসে ঠিক করেছি, পশ্চিমবঙ্গ নামটার ব্যাপক একটা ঐতিহ্য লুকিয়ে রয়েছে। ১৯৪৭ সালে, যেদিন আমাদের পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল। সেদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তান দ্বিখন্ডিত হয়। তার ফলেই পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে। যা বর্তমান প্রজন্ম ও পরবর্তী প্রজন্মের জানার প্রয়োজন। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই প্রকল্পের নাম পশ্চিমবঙ্গ আবাস রাখা হবে।”