মেয়ে হওয়ায় কচু বাগানে ফেলে পালায় মা! অসুস্থ বাবা, অনাহারে দিন কাটছে ছোট্ট তৃষ্ণার

Published:

13 years Trishna

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: সদ্যোজাত মেয়েকে বুকে তুলে না নিয়ে কচুবনে ফেলে দিয়েছিলেন মা। এই ছোট্ট শিশুটির অপরাধ একটাই? সে “মেয়ে”। ছেলে চেয়েছিলেন তৃষ্ণার মা। মেয়ে হয়েছে বলে তাকে ফেলে দিয়ে, স্বামী সংসার রেখে চলে যান তিনি। আর ফেরেননি। সেই থেকেই শুরু হয় তৃষ্ণার বেড়ে ওঠার লড়াই। এখন সে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বয়স মাত্র ১৩ বছর। কিন্তু এই বয়সেই জীবনের অনেক কঠিন বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখতে হয়েছে তাঁকে (Sad Story)।

ঠাকুমাকে ঘিরেই তৃষ্ণার ছোট্ট পৃথিবী

তৃষ্ণার সংসারে বলতে বাবা আর ঠাকুমা। বাবার শরীর খুব একটা ভালো নয়। সংসার চালানোর জন্য কিছুই করেন না তিনি। হাই ব্লাড প্রেসারের সমস্যা রয়েছে তাঁর। তাই নিয়মিত কাজ করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরেই এদিক ওদিক করে দিন কাটান তিনি। অন্যদিকে বয়সের ভারে ঠাকুমার শরীরও আর আগের মতো নেই। মাঝেমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই সবসময় ঠাকুমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে তৃষ্ণা। তার মনে একটাই ভয়, ঠাকুমাও যদি একদিন চলে যান, তাহলে এই পৃথিবীতে নিজের বলতে আর কেউ থাকবে না।

অভাবের সংসারে কোনওরকমে দিন কাটে তৃষ্ণাদের। কখনও পরিচিত মানুষের সাহায্য, কখনও সমাজকর্মীদের সহযোগিতা, আবার কখনও সাধারণ মানুষের দয়ায় সংসারটা কোনওরকমে টিকে রয়েছে বলা যেতে পারে। এত অনিশ্চয়তার মধ্যেও পড়াশোনা ছাড়েনি তৃষ্ণা। বই-খাতার জগতটাই যেন তার নিজের একটা ছোট্ট পৃথিবী। সেখানে কোনও অভাব নেই, ভয় নেই, নেই আগামী দিন নিয়ে এত চিন্তা। পড়াশোনা করে নিজের জীবনটা বদলে ফেলতে চায় সে। মা না থাকার যন্ত্রণা ভুলে ভালোভাবে বাঁচতে চায় সে।

আরও পড়ুন: হাওড়ার দুই প্রধান রাস্তায় টোটো বন্ধে তৎপর পুলিশ, চলছে মাইকিং ও মৌখিক প্রচার

তৃষ্ণার আবদারগুলো খুব বড় নয়, সামান্য জিনিসেই খুশি সে। অথচ এই সামান্য চাওয়া-পাওয়া গুলো পূরণ করতেই তাকে প্রতিনিয়ত অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ভালো করে পড়াশোনা করে একদিন অনেক বড় হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে তৃষ্ণা। যে বয়সে অন্য শিশুরা নিশ্চিন্তে স্বপ্ন দেখে, সেই বয়সেই তৃষ্ণাকে ভাবতে হয় ঠাকুমার শরীর, বাবার অসুস্থতা আর সংসারের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তবু সবকিছুর মধ্যেও সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। হয়তো জীবনের শুরুটা তার ইচ্ছেমতো হয়নি, কিন্তু আগামী দিনগুলোকে নিজের মতো করে গড়ে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে রয়েছে তৃষ্ণা।