কলকাতার কাছেই রয়েছে এক রহস্যময় সৈকত, যেখানে সমুদ্র হারিয়ে যায় ১০ কিমি অবধি

Published:

Chandipur Sea Beach

সহেলি মিত্র, কলকাতা: আপনি কি জানেন ভারতে এমন একটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে যেটি মাঝেমধ্যেই অদৃশ্য হয়ে যায়। সমুদ্র এতোটাই দূরে চলে যায় যে কয়েক কিমি হেঁটে গেলেও তা খুঁজে পাওয়া যায় না! শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। আর এরকম দৃশ্য দেখার জন্য সেখানে পর্যটকরা ভিড় জমান। ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন সৈকত রয়েছে, যেখানে সমুদ্র কয়েক ঘণ্টার জন্য অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তারপর আবার ফিরে আসে। প্রকৃতির এই অলৌকিক ঘটনা এবং এর পেছনের রহস্য আজ পর্যন্ত কেউই উন্মোচন করতে পারেনি। আপনিও কি জানতে ইচ্ছুক কোথায় এমন জায়গা আছে তাই জানার জন্য? আপনিও কি সেখানে নিরিবিলিতে কয়েকটা দিন কাটাতে চান? তাহলে যেতে হবে চাঁদিপুর।

এখানে সমুদ্র লুকোচুরি খেলে!

হ্যাঁ এতক্ষণ যে এই সৈকতটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো সেটির নাম হল চাঁদিপুর (Chandipur Sea Beach)। এই সমুদ্র সৈকতে পৌঁছানোর জন্য ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বালাসোর। এমনিতেই বালাসোর বা বালেশ্বর ওড়িশার একটি ছোট, শান্ত শহর। বালেশ্বর থেকে চাঁদিপুর পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। সৈকতের ধারে সারিবদ্ধভাবে লম্বা তালগাছ রয়েছে। এখানে নাকি চোখের সামনেই সমুদ্র কয়েক কিলোমিটার দূরে সরে যায়, যা দেখে লোকজন সেদিকে ছুটে যায়। এই সৈকতটি এই কারণে অনন্য যে, জোয়ার ও ভাটার সময় এখানকার জল ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত সরে যায়। মৎস্যজীবীরা এখানে দলে দলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে ভিড় করে। এরকম দৃশ্য অবশ্য আপনি বকখালিতেও দেখতে পাবেন।

বালেশ্বর থেকে চাঁদিপুর পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। সৈকতের ধারে সারিবদ্ধভাবে লম্বা তালগাছ রয়েছে। চোখের সামনেই সমুদ্র কয়েক কিলোমিটার দূরে সরে যায়, যা দেখে লোকজন সেদিকে ছুটে যায়। এই সৈকতটি এই কারণে অনন্য যে, জোয়ার ও ভাটার সময় এখানকার জল ১ থেকে ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত সরে যায়। মৎস্যজীবীরা এখানে দলে দলে এসে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে ভিড় করে।

কী কী দেখবেন?

ওড়িশার বেশিরভাগ শহরই প্রাচীন মন্দিরে পরিপূর্ণ, যা স্থাপত্যের এক বিস্ময়। এই সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা পাথরের মন্দিরগুলি বিভিন্ন ধর্মের প্রতীক এবং ভিন্ন ভিন্ন কাহিনী বলে। এমনই একটি মন্দির হলো পঞ্চলিঙ্গেশ্বর, যা বালেশ্বর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নীলগিরি পর্বতমালার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য আপনার মনে সারাজীবন গেঁথে থাকবে। এছাড়াও রয়েছে খিরচৌরা গোপীনাথ মন্দির, যেটি বালাসোর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই মন্দিরটি তার বিশেষ প্রসাদ, ক্ষীরের জন্য জনপ্রিয়।

আরও পড়ুনঃ পেলিং নয়, এবার পুজোয় ঘুরে আসুন সিকিমের একদম অচেনা অফবিট ‘দারাপ’

চাঁদিপুর কীভাবে পৌঁছাবেন?

ভুবনেশ্বর এবং বালাসোরের মধ্যে বিভিন্ন বিরতিতে ট্রেন চলাচল করে। এছাড়াও ট্রেনে করে কলকাতা থেকে সরাসরি বালাসোর পৌঁছে যেতে পারেন। গন্তব্যে পৌঁছাতে ২ থেকে ৩ ঘন্টা সময় লাগে। বালাসোর এবং চণ্ডীপুরের মধ্যে শেয়ার্ড জিপ এবং ব্যক্তিগত ট্যাক্সি চলাচল করে।