প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। অর্থাৎ মাছ (Fish) ছাড়া বাঙালি যেন কিছুই ভাবতে পারে না। বাজারে কত রকমেরই মাছ পাওয়া যায়, যার মধ্যে অন্যতম হল শোল মাছ (Shol Mach)। কতরকম ভাবেই এই মাছ রান্না করা যায়। কেউ কড়াইশুঁটি এবং পালং শাক দিয়ে খায়, তো কেউ আবার বড়ি দিয়ে চচ্চড়ি করে খায়, কিন্তু কখনও কি শোল মাছের ধোঁকা (Shol Macher Dhoka) খেয়েছেন? যদি না খেয়ে থাকেন তাহলে আজকের এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র আপনার জন্য। সম্পূর্ণ রেসিপি এবং পদ্ধতি জেনে নিন বিস্তারিত।
উপকরণ
শোল মাছের ধোঁকা রান্নার জন্য যে যে উপকরণগুলো দরকার সেগুলি হল – শোল মাছ, আলু, নুন, হলুদ গুঁড়ো, শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো, তেজপাতা, পেঁয়াজ বাটা, রসুন বাটা, আদা বাটা, গরমমশলা বাটা, সর্ষের তেল।
রান্নার পদ্ধতি
শোল মাছ খেতে কম বেশি সকলেরই ভালো লাগে। কিন্তু আমাদের আজকের প্রতিবেদন নিয়ে এসেছে শোল মাছের এক ইউনিক রেসিপি, যা ঠাকুমা দিদারা করতেন। চলুন সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
- প্রথমে শোল মাছ গুলোর ভালো করে আঁশ ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে। এরপর সেগুলি জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নুন এবং হলুদ গুঁড়ো দিয়ে মাখিয়ে ৩০ মিনিট ঢেকে রেখে দিতে হবে।
- এরপর কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে ওর মধ্যে ম্যারিনেট করে রাখা শোল মাছগুলোকে এক এক করে ভেজে নিতে হবে। ভাজার সময় তেল ছিটে আসার সম্ভাবনা থাকে তাই সাবধানে মাছ ভাজতে হবে।
- মাছের দুই পিঠ ভালো করে ভাজা হয়ে এলে সেগুলোকে অন্ন পাত্রে তেল ঝরিয়ে রেখে দিতে হবে। এরপর একটি আলাদা বাটিতে কেটে রাখা আলুর টুকরো গুলো নিয়ে ওর মধ্যে ৩ চামচ পেঁয়াজ বাটা, ২ থেকে ৩ টে তেজপাতা, এবং সামান্য নুন দিয়ে প্রথমে ভালো করে মেখে নিতে হবে।
আরও পড়ুন: অল্প উপকরণ দিয়ে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন মনমোহিনী চিংড়ি কারি, স্বাদ হবে অসাধারণ
- এরপর আলুগুলোর মধ্যে আদা বাটা, রসুন বাটা, হলুদ গুঁড়ো, শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে পুনরায় মেখে নিতে হবে। মাখার সময় গরম মশলা বাটাও দিয়ে দিতে হবে। ভালো করে সবটা মাখিয়ে নেওয়ার পর মাছ ভাজার তেল সামান্য ওর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে।
- পুরো আলুর মিশ্রণটা এবার টানা ৩০ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে। সময় হলে এলে কড়াইয়ের মধ্যে পুনরায় সর্ষের গরম করে ওর মধ্যে ম্যারিনেট করে রাখা আলুর মিশ্রণটা ঢেলে দিতে হবে। তার সঙ্গে গ্রেভি অনুযায়ী সামান্য জল মিশিয়ে দিতে হবে। মাঝারি আঁচে ঝোলটা ফুটতে দিতে হবে।
- এরপর ৭-৮ মিনিট পর নাড়াচাড়া করার পরেই ভাজা মাছগুলো দিয়ে দিতে হবে। ব্যাস, তাহলেই তৈরি শোল মাছের ধোঁকা। গরম গরম ভাতের সঙ্গে খেতে লাগবে জব্বেশ।










