বাংলাদেশের জাহাজে চুরি নামখানার তৃণমূল নেতার, বাড়ি থেকে উদ্ধার ৪০ ব্যারেল ডিজেল

Published:

Namkhana

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে গত এক মাসে তৃণমূলের (Trinamool Congress) নেতা, কর্মী, বিধায়কদ, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। কোথাও ত্রাণের সামগ্রী, কোথাও টাকার বস্তা, কোথাও ত্রিপল উদ্ধার হতেই রয়েছে। কিন্তু এবার তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হল ৪৮ ব্যারেল তেল। এমনকি সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে কয়েক বস্তা সুপারি। ঘটনাটি ঘটেছে নামখানায় (Namkhana)। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু মূল অভিযুক্ত অধরা।

নামখানায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে উদ্ধার তেলের ব্যারেল

আসলে শনিবার বিকেলে পুলিশ হঠাৎ করে তৃণমূল নেতা নজরুল ইসলামের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকেই ৪৮  ব্যারেল ডিজেল এবং কয়েক বস্তা সুপারি উদ্ধার করা হয়। সূত্রের খবর, ওই ডিজেলের ব্যারেলগুলি বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চুরি করা, যেগুলি তৃণমূল নেতার বাড়িতে মজুদ রাখা হয়েছিল।  এমতাবস্থায় তাঁর গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার বেশ কিছুক্ষণ ধরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু পুলিশ বাড়িতে পায়নি নজরুলকে। সেই কারণে তাঁর দাদা আনারুল মোল্লাকে আটক করে পুলিশ। এমনকি তাঁর বাড়ির শৌচালয় থেকেই ফ্রেজারগঞ্জ পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি তৃণমূলের প্রসেনজিৎ জানাকে আটক করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, তেলের ব্যারেলগুলি অন্য জায়গায় সরিয়ে ফেলার জন্যই নজরুলের বাড়িতে এসেছিল প্রসেনজিৎ। কিন্তু তৎক্ষণাৎ পুলিশ হানা দেওয়ার কারণে শৌচালয়ে লুকিয়ে পড়েন। সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে। কিন্তু নজরুলের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা অনড় থাকেন। তাঁদের একটাই দাবি যে, তাঁকে গ্রেফতার করতেই হবে। এলাকার মানুষজনদের কাছে অবৈধভাবে প্রচুর টাকা নিয়েছে ওই অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে, এবং ইতিমধ্যে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: কলকাতার গণ্ডি পেরিয়ে এবার অন্য শহরেও ছুটবে মেট্রো! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

না বললেই নয়, আজ সকালেই পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে প্রচুর পরিমাণে ত্রাণের সামগ্রী বিশেষ করে ত্রিপল মজুদ ছিল। এমনকি বেশ কিছু ফুটবল উদ্ধার করা হয় তাঁর বাড়ি থেকে। অভিযোগ, ত্রিপলগুলি বিতরণ করার পরিবর্তে তিনি নিজের বাড়িতেই রেখে দিয়েছিলেন, এবং সেগুলি থেকেই টাকা আয় করার ধান্দা এঁটেছিলেন। তাঁকে গ্রেফতার করে তদন্তের আওতায় নিয়েছে পুলিশ। এমনকি গ্রেফতার করে গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয়রা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে।