‘সবুজ সাথী’র নাম বদলে নয়া সরকারের ‘সারথি’, নীলের বদলে কী হচ্ছে সাইকেলের রঙ?

Published:

Sabooj Sathi Bicycle

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন যে রাজ্যের আগের সরকারের চালু করা কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। তবে চালু থাকা প্রকল্পগুলোর জন্য একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার। স্বাস্থ্য সাথী ও কৃষক বন্ধুর মতো প্রকল্পকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের অধীনে আনা হয়েছে। আর এখন জানা যাচ্ছে যে, পূর্বতন সরকারের চালু করা ‘সবুজ সাথী’ (Sabooj Sathi) প্রকল্পের নাম বদলে সারথি (Sarathi) করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় এই প্রকল্পে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের যে সাইকেল দেওয়া হয় তার রঙ এবং প্রকল্পের লোগোতেও বদল আসছে। 

সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেলে রঙ বদলে যাচ্ছে

প্রশাসনিক সূত্র মারফৎ জানা গেছে, সবুজ সাথী প্রকল্পের নাম বদল করে যে শুধু সারথি রাখা হচ্ছে তাই নয়, তারসাথে বদলাচ্ছে লোগো এবং সাইকেলের রঙও। স্কুল পড়ুয়াদের যে সাইকেল এবার থেকে বিলি করা হবে, তাতে থাকবে গেরুয়া রঙের ছোঁয়া। আগের নীল রঙ বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পূর্বতন তৃণমূল সরকার এবছর বিধানসভা ভোটের আগেই দ্বাদশ দফার ‘সবুজ সাথী’ সাইকেল বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল। ঠিক করা হয় ১২ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রীকে সেই সাইকেল দেওয়া হবে। কিন্তু ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার ফলে কাজ শুরু করেও বন্ধ করে দিতে হয়। খুব বেশি হলে ১ থেকে ২ লক্ষ সাইকেল বিলি করা গিয়েছিল সেই সময়। 

আরও পড়ুন: কলকাতায় সাংবাদিক নিগ্রহে গ্রেফতার ১৪, রয়েছে তৃণমূল যোগ, ‘কেউই পড়ুয়া নয়’ দাবি পুলিশের

ভোটের নির্ঘণ্ট আসার আগে বেশ কিছু সাইকেল জেলাগুলিতে পৌঁছে গেলেও, ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে শোনা যাচ্ছে, সম্প্রতি বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানেই প্রকল্পের নতুন নাম ঘোষণা করা হয়। জেলাগুলির দপ্তরে এখন যেসব সাইকেল এসে পড়ে রয়েছে, সেগুলিতে স্বভাবতই আগের সরকারের দেওয়া লোগোই বসানো রয়েছে। বিজেপি সরকার সেই লোগো বদলে নতুন লোগোর সাথে সাইকেল বিলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

আরও পড়ুন: বেসরকারি স্কুলে চলবে বিশেষ অভিযান, বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর সরকারের

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন রঙ ও লোগোর সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের বাকি সাইকেলগুলি পৌঁছে যাবে জেলাগুলিতে। তারপর আগের পদ্ধতিতেই সেগুলি ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কোনো যোগ্য পড়ুয়া যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা দেখার জন্য জেলার আধিকারিকদের দায়িত্ব দিয়েছে অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর।