ভাগীরথী নদীর পাড়ে ২০০ মিটার জুড়ে ফাটল, বড় বিপদের আশঙ্কায় আতঙ্ক শান্তিপুরে

Published:

Shantipur

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাতারাতি ভাগীরথী নদীর পাড়ে প্রায় ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে বড়সড় ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে নদিয়ার (Nadia) শান্তিপুরে (Shantipur)। শান্তিপুর পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্টিমারগঞ্জ এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ফাটল আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। বিশেষ করে নদীর পাড়ের কাছাকাছি বসবাসকারী কয়েকশো পরিবার এখন নিজেদের বাড়িঘর ও নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিষয়টিকে সাধারণ সমস্যা হিসেবে না দেখে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কী বলছেন এলাকার বাসিন্দারা?

উদ্বেগের অন্যতম কারণ, ফাটল দেখা দেওয়া এলাকার কাছেই রয়েছে একটি শিশু উদ্যান, যা উদ্বোধন করেছিলেন শান্তিপুরের বিধায়ক। পাশাপাশি ওই এলাকায় রয়েছে শান্তিপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প। নদীপাড়ে আরও ভাঙন দেখা দিলে জল প্রকল্পের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছেন না স্থানীয়রা। এর আগে ২০২০ ও ২০২৪ সালেও শান্তিপুরের স্টিমারঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় ভাগীরথীর ভাঙন এবং পানীয় জল প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় পুরনো আশঙ্কাও ফিরে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক ফাটলের কারণ এবং পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

এলাকাবাসীদের আরও দাবি, শান্তিপুর থানা এলাকা থেকে গুপ্তিপাড়া ফেরিঘাটে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক। তাঁদের বক্তব্য, প্রায় পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাতায়াতের পথ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে। নদীর পাড়ে ফাটল ক্রমশ বাড়তে থাকলে বসতবাড়ি ও রাস্তা বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এক বাসিন্দার কথায়, “এখানে আমরা অনেকগুলো পরিবার বসবাস করি। এই ঘটনায় সবাই চিন্তায় পড়েছি। বিধায়ক ও সাংসদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যেন এখানে এসে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে যান। বড় কোনও বিপর্যয় ঘটলে ছেলেমেয়েদের নিয়ে এতগুলো পরিবার চরম বিপদে পড়ব। ফাটলের কারণে বাড়িঘর ভেঙে গেলে আমাদের থাকার জায়গাটুকুও থাকবে না।”

আরও পড়ুন: পায়ের আঙুল ভেঙে গেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের, কেমন আছেন বিরোধী দলনেতা?

ওই বাসিন্দার অভিযোগ, “কোনও সমস্যা হলেই প্রশাসনের লোকজন এসে সাময়িকভাবে মেরামতি করে চলে যান। কিন্তু স্থায়ীভাবে কাজ না হওয়ায় কিছুদিন পর আবার একই সমস্যা দেখা দেয়। তাই এবার বিষয়টি যেন ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হয়।” স্থানীয়দের দাবি, নদীপাড়ে ঠিক কী কারণে এই ফাটল তৈরি হয়েছে, তা তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। কোনও বড় বিপর্যয় ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে ঠিক কী কারণে এই ফাটল সৃষ্টি হয়েছে সেটা প্রশাসন কর্তৃক তদন্তের পরই বোঝা যাবে।

google button