সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সরকারি বলুন বা বেসরকারি, এবার থেকে যে কোনও হাসপাতালে চিকিৎসার যাবতীয় রেকর্ড এক জায়গায় পাবে রাজ্যবাসী। কেন্দ্র সরকারের আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের আওতায় এবার গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চালু হতে চলেছে ABHA বা আয়ুষ্মান ভারত হেলথ অ্যাকাউন্ট (Ayushman Bharat)। আর এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি আলাদা আলাদা ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র তৈরি করা হবে।
কী এই ABHA কার্ড এবং কেন জরুরী?
আসলে এতদিন যাবত রোগীদের প্রেসক্রিপশন, এক্সরে রিপোর্ট কিংবা রক্ত পরীক্ষার কাগজ ফাইলে করে বয়ে বয়ে নিয়ে বেড়াতে হত। তবে ABHA চালু হলে প্রত্যেক নাগরিকের একটি ১৪ ডিজিটের ডিজিটাল স্বাস্থ্য নম্বর থাকবে। রোগীর যাবতীয় হেলথ রেকর্ড, সে অপারেশন থেকে শুরু করে ওষুধ, টেস্ট রিপোর্ট, সবকিছুই এই ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে। এমনকি ডাক্তার বা হাসপাতাল এই নম্বর ব্যবহার করে রোগীর আগের চিকিৎসার ইতিহাস নিমেসের মধ্যে দেখে নিতে পারবে।
তবে এই প্রকল্পের আওতায় মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নম্বর বা রেজিস্ট্রি তৈরি করা হচ্ছে। প্রথমত, ABHA নম্বর। যেটি সাধারণ নাগরিকদের জন্যই। দ্বিতীয়ত, এইচএফআর নম্বর, যেটি রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পাওয়া যাবে। আর রয়েছে হেলথ প্রফেশনাল রেজিস্ট্রি নাম্বার, যেটি রাজ্যের প্রতিটি চিকিৎসক এবং নার্সিং কর্মীদের জন্য থাকবে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যে পরিবর্তনের পরে এই প্রকল্প কার্যকর করার জন্য সবুজ সংকেত মিলেছে। আর বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের ইতিহাসে মোট ৫ কোটি রোগীর ABHA অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের আউটডোর টিকিট বা ইনডোর ভর্তির সময় আধার নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে এই নম্বরগুলি প্রস্তুত হচ্ছে। এছাড়াও রাজ্যের প্রায় ১১,০০০ সরকারি হাসপাতালের এইচএফআর নম্বর তৈরির কাজ শেষ। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলির কাজ এখনও পর্যন্ত কিছুটা বাকি।
আরও পড়ুন: সকাল সকাল বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, কলকাতায় কত হল?
কীভাবে বানাতে হবে এই কার্ড?
কেউ যদি চায়, সেক্ষেত্রে নিজেই নিজের ABHA কার্ড তৈরি করে নিতে পারবে। তবে এর জন্য আধার নম্বর কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স দরকার। এরপর আধার সেন্টারে গিয়ে বা অনলাইনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। আর বিগত সরকারের আমলে ডিজিটাল মিশন নিয়ে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও নতুন সরকার আসার কারণে সেই কাজ দ্রুত গতি এগোচ্ছে। তাই আশা করা যাচ্ছে যে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবার আরও উন্নত হবে।










