চোরবাগানকাণ্ডের জের, বন্ধ সন্তোষ মিত্র স্কয়ার, চেতলা অগ্রণী সহ একাধিক মণ্ডপ 

Published:

puja-pandals-are-closed

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আনন্দ উৎসবের মাঝেই উত্তর কলকাতার (Kolkata) চোরবাগান (Chorbagan) সর্বজনীনে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় শহরজুড়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ১৭ অক্টোবর, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়ের জেরে এই অপরিকল্পনীয় বিপর্যয় ঘটে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ২৫ জনের আহত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই ঘটনার তাৎপর্য বুঝতে পেরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থানপথ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে কলকাতার একাধিক বড় পুজোমণ্ডপে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে তৎপর প্রশাসন

চোরবাগানের ঘটনার পর শহরের অন্যান্য জনপ্রিয় পুজোগুলিতে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মানুষ। বিশেষ করে যে মণ্ডপগুলিতে থিম, আলোকসজ্জা কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠান দেখতে বিপুল মানুষের সমাগম হয়, সেখানে প্রবেশ ও বেরোনোর পথ কতটা নিরাপদ, তা খতিয়ে দেখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক নির্দেশে একাধিক পুজো কমিটিকে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভিড়ের চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, টালা প্রত্যয়, আলিপুর সর্বজনীন, চেতলা অগ্রণী ও বালিগঞ্জ সর্বজনীনের মতো জনপ্রিয় পুজোগুলিতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিধাননগর এলাকার কয়েকটি বড় পুজোতেও সাময়িকভাবে প্রবেশ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়।

কোন পুজোমণ্ডপে কী ব্যবস্থা?

১. টালা প্রত্যয়: আপাতত বন্ধ দর্শন, আলো বাড়ানোর নির্দেশ

২. চেতলা অগ্রণী: ভিড়ের চাপ বুঝে প্রবেশপথ বন্ধ করতে হবে

৩. আলিপুর সর্বজনীন: সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে মণ্ডপ

৪. অ্যালেন পার্ক: বন্ধ আলোকপ্রদর্শনী ও অনুষ্ঠান

৫. সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার: লাইট আর সাউন্ডে নিয়ন্ত্রণ, এছাড়াও ভিড় কমানোর ব্যবস্থাপনা নেওয়া হচ্ছে

৬. কলেজ স্কোয়ার: প্রবেশ ও প্রস্থানপথে নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হচ্ছে

৭. হাতিবাগান সর্বজনীন: এই মণ্ডপে VIP প্রবেশ বাতিল করা হয়েছে

শুধু কলকাতা নয়, বিধাননগরেও সতর্কতা

চোরবাগানের ঘটনার প্রভাব চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধাননগর এলাকার কয়েকটি বড় পুজোমণ্ডপেও দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, যেসব জায়গায় অতিরিক্ত ভিড়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চোরবাগানের দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিয়েছে, জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপে শুধু আকর্ষণীয় থিম বা আলোকসজ্জা থাকলেই হয় না, দর্শনার্থীদের নিরাপদে প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় অল্প জায়গায় বিপুল মানুষের জমায়েত, প্রবেশ ও প্রস্থানপথে চাপ বৃদ্ধি এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ‘চোরবাগানে পুজো দখল’ প্রাক্তন উদ্যোক্তা জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলে সরব কুণাল ঘোষ

সব মিলিয়ে, চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর কলকাতার বড় পুজোগুলিতে এখন মূল লক্ষ্য একটাই, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোন প্যান্ডেলে কত ভিড় হলো, সেই গণনায় মত্ত না থেকে মানুষের সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। তবে কোন মণ্ডপ কখন খুলবে, তা সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটি ও প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশের উপর নির্ভরশীল।

google button