সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) ঢোকেনি, এই অভিযোগ রাজ্যের বেশিরভাগ মহিলার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, জুলাই মাসের ১ তারিখ রাজ্যের প্রত্যেক মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু ১ কোটি ৯ লক্ষের বেশি মহিলা টাকা পেলেও প্রায় ২৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। এমনকি তাদের আবেদন রিজেক্ট করে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। এ নিয়ে এবার বড় ঘোষণা রাজ্য প্রশাসনের। প্রত্যেকেরই করতে হবে এবার ভেরিফিকেশন। এমনকি পরিবারের বার্ষিক আয় নিয়েও কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় আপডেট
এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে সমস্ত মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি, অর্থাৎ যাদের নাম বাদ গিয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে তাদের প্রত্যেকের তথ্য পুনরায় ভেরিফিকেশন করতে হবে। এমনকি এর জন্য রাজ্যের প্রত্যেক বিধায়ককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিজস্ব এলাকায় মহিলাদের তথ্য ভেরিফিকেশন করতে সাহায্য করবেন। তবে এক্ষেত্রে আরও উল্লেখ্য, যাদের টাকা ঢুকেছে, তাদেরকেও করতে হবে এই ভেরিফিকেশন। এমনকি এর জন্য হাতে ১০ দিন সময় রয়েছে। তার মধ্যেই নিকটবর্তী ব্লক অফিস, বিডিও অফিস কিংবা পৌরসভায় গিয়ে এই ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।
তবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, যে সমস্ত মহিলার বাড়িতে তিনটির বেশি পাকা ঘর রয়েছে, তারা এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাবে না। পাশাপাশি যে সমস্ত মহিলারা সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত, কিংবা আয়কর প্রদান করেন তারাও পাবে না সুবিধা। তবে এবার একটি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার উপরে থাকলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ যারা আবেদনের সময় বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার নিচে দিয়েছিল তারাই শুধুমাত্র পাবে সুবিধা।
আরও পড়ুন: কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস! সাইবার অ্যাটাক ব্যাঙ্ক অফ বরোদায়
প্রসঙ্গত, যে সমস্ত মহিলার নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে রিজেক্ট করে দেওয়া হয়েছিল তাদেরকে বর্তমানে আবার আন্ডার এনকোয়ারি পর্যায়ে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের তথ্য পুনরায় যাচাই করেই এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র যোগ্য উপভোক্তরাই পাবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো দুর্নীতি এই প্রকল্প হবে না। সেই সূত্র ধরেই, এবার প্রত্যেক মহিলার তথ্য যাচাই করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি তার জন্য বিধায়কদের দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত দায়িত্ব।










