সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম (Annapurna Bhandar) প্রকাশ করার পর যেন বিতর্ক কিছুতেই থামছে না। কেন ১৩ পাতার ফর্ম রাখা হল? কেন পরিবারের সকল সদস্যের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে চাওয়া হচ্ছে? মহিলারা এই ফর্ম ফিলাপ করতে সমস্যায় পড়ছে। অনেকেই টাকা পাবেন না। এমনই সব দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে পাড়ার অলিগলিতে। এমনকি নতুন সরকারকেই সকলে কাঠগড়ায় তুলছে। সেই কারণে এবার ফর্ম সহজ করার বিবেচনা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
১৩ পাতার ফর্ম নিয়ে কী বললেন মন্ত্রী?
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “এই ফর্ম নিয়ে আমরা অনেক জায়গা থেকে অভিযোগ পাচ্ছি যে ফিলাপ করতে অসুবিধা হচ্ছে। আসলে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। হয়তো ১১ বা ১২ পাতা দেখে অনেকের মনে ভয় জন্মাচ্ছে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি, যদি সেটা কিছুটা সহজ করা যায়। তবে আসলে ১১ বা ১২ পাতা ইনফরমেশন দিলেই যে আপনি অন্নপূর্ণ ভাণ্ডার পাবেন এমনটা নয়। কারণ, আগামী দিনে অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে বাস্তবায়িত হবে। তাই আমরা আগে থেকেই ডেটা নিয়ে রাখছি, যাতে পরে অসুবিধা না হয়। এই ডেটার উপর ভিত্তি করে আপনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন কি না পাবেন সেটা ফ্যাক্ট নয়।”
মন্ত্রীর আরও সংযোজন, “আমি আগেই বলেছি যে যারা ভোটার লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে তারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবে না। এমনকি যাদের একাধিক জায়গায় ভোটার রয়েছে, বা বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিচ্ছিলেন তারা পাবেন না। পাশাপাশি যারা আয়কর দেন তাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাওয়ার কথাই নয়। এছাড়া যারা সন্তানদেরকে সরকার অনুমোদিত স্কুলে পড়াননি তারাও পাবেন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। আমরা চাই আসল মানুষদেরকে এই প্রকল্পের টাকা দিতে।”
আরও পড়ুন: গরমের ছুটি শেষ! কবে খুলছে স্কুল? একাধিক নির্দেশিকা জারি শিক্ষা দফতরের
উল্লেখ্য, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনুমোদন হওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজেই বলেছিলেন যে, যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান তারা সকলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন যে, “আমরা তখন ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি অনেক পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। এমনকি ৩০ লক্ষ লোক বেআইনিভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিচ্ছিল। তাহলে তো এদের জন্য কার্তিক ভাণ্ডার বা গনেশ ভাণ্ডার চালু করা উচিত ছিল। লক্ষীর ভাণ্ডার নামটা কেন দিলেন? এই সমস্ত অযোগ্য নামগুলি বাদ দেওয়ার জন্যই আমাদের এই পদক্ষেপ। তবে আমরা চেষ্টা করছি ফর্ম যাতে কিছুটা সহজ করা যায়।”










