সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শহরের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই চলছে দেশবিরোধী কার্যকলাপ। ক্যাম্পাসের ভিতরের দেওয়ালে কোথাও আজাদি স্লোগান লেখা, কোথাও বা দেশবিরোধী বিভিন্ন পোস্টার সাঁটানো। এমনকি এখানকার ছাত্র সংগঠন সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর বিরোধী। তবে নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর এবং বাইরে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করবই।” এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে ১০ হাজার কণ্ঠে এদিন বন্দেমাতরম পরিবেশিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। তবে সেই দেশবিরোধী দেওয়াল লিখনে এবার করা হল সাদা চুনকাম।
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই মোছা হল যাদবপুরের দেশবিরোধী স্লোগান
কোথাও আজাদি, কোথাও ফ্রি প্যালেস্টাইন, দেশবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান এতদিন দেখা যেত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দেওয়ালে। তবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন দেশবিরোধী স্লোগান বা আপত্তিকর দেওয়াল লিখন থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে? এমনকি এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিও পোস্ট করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। তার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুরু করল সেই দেওয়াল মোছার কাজ। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালের সেই লিখন, গ্রাফিতি এবং স্লোগানগুলিকে আজ সাদা চুনকাম করে দেওয়া হচ্ছে।
গত পরশুদিন যাদবপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে বন্দেমাতরম গাইতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগদান করেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। সেখানেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, “আমি ওই পুলিশমন্ত্রী। আমি জঞ্জাল সাফ করতে জানি। আমি অসুখও জানি। ওষুধও জানি। আমাদের বিদ্যার্থী পরিষদ দিল্লিতে জেএনইউ, হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া, সবাইকেই শুধরে দিয়েছে। বাকি রয়েছে যাদবপুর। এটাও হয়ে যাবে। এত সাহস, আর হোস্টেলের দেওয়ালে রেড স্যালুট কিষানজি। কে এই কিষানজি?”
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন স্ট্যাটাস ‘Invalid Account Type’, এখনই জানুন কী করবেন
এমনকি তিনি আরও জানান, “দেওয়ালে লেখা ফ্রি প্যালেস্টাইন। ওই জায়গায় আগে লিখুন ফ্রি পাক অকুপায়িড কাশ্মীর। লিখুন ফ্রি পিওকে। উচ্চশিক্ষা দফতর দেখছে। আমিও দেখছি। জুটার নেতাবাবুরা কতক্ষণ এদের বাঁচায়, তা আমি দেখে নেব। ক্যাম্পাসের উপরে ড্রোন ওড়াব। কোথায় গাঁজা খাচ্ছে, কোথায় মদের আসর বসছে, নবান্ন থেকে সব দেখব।” কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরপরই যাদবপুরের সেই অরাজকতা দূর করতে এবং দেশবিরোধী স্লোগান মুছতে তৎপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।










