বারুইপুর গণধর্ষণ-কাণ্ডে বড় সাফল্য পুলিশের, বসিরহাট থেকে ধরা পড়ল আরেক অভিযুক্ত

Published:

Baruipur Rape And Murder Case

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে (Baruipur Rape And Murder Case) নয়া মোড়! নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় অবশেষে বসিরহাট (Basirhat) থেকে গ্রেফতার করা হল আরেক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে। জানা গিয়েছে আজ, বিশেষ অভিযান চালিয়ে কবীরকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স, বারুইপুরের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ এবং জেলা পুলিশের যৌথ দল। সব মিলিয়ে মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। অন্যদিকে গণপিটুনি ও পুলিশকে মারধরের ঘটনাতে তল্লাশি চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বসিরহাট থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত

গতকাল, মঙ্গলবার, বারুইপুরের নাবালিকা খুন এবং ধর্ষণ এর ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারের পরেই সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রীতিমত থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় আজ, বুধবার, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কবীর মোল্লাকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), বারুইপুরের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) এবং জেলা পুলিশের যৌথ দল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় কবীর মোল্লার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে ঘটনার পর থেকেই কবীর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল এবং বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করছিল। অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গণপিটুনি কাণ্ডে পুলিশের জালে ২০

তদন্তকারীদের দাবি কবীর মোল্লাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় তার ভূমিকা কী ছিল, কারা পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এই সংক্রান্ত একাধিক তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে নাবালিকা খুনের ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক অশান্তি পাকানোর অভিযোগে পুলিশ এখনও পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, রেল অবরোধ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এদের ধরা হয়েছে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে ধর্ষণ কান্ডের ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি এই ঘটনাগুলিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের তহবিলের ১৬০ কোটি দিয়ে কেনা হয় বিমান, হেলিকপ্টার? চাঞ্চল্যকর তথ্য ED-র হাতে

বারুইপুর জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্ত যেমন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, তেমনই পুলিশের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনাতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের লক্ষ্য হল, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং নাবালিকার পরিবারের জন্য সঠিক বিচার নিশ্চিত করা।