প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দশমীর সন্ধ্যায় মালদায় (Malda) হিংসার বলি হতে হল এক বিজেপি কর্মীকে। রীতিমতো কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। এমনকি মৃত্যু (BJP Worker Murder In Malda) নিশ্চিত করতেও নাকি ২ রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা ও কর্মীরা। খবর পেয়ে বুধবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
দশমীর রাতে বিজেপি কর্মীকে খুন
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল, বুধবার, ঘটনাটি ঘটেছে মালদার ইংরেজবাজার থানার রামকেলি এলাকায়। নিহতের নাম সমীর ঘোষ, বয়স ২৭। নিহতের ভাই বিবেক অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর দাদা বিজেপি-র সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আর সেই কারণে খুব একটা বাড়ি থেকেও সমীর বেরোতেন না। গতকাল সন্ধ্যাতেও বাড়িতে একা ছিলেন সমীর। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ১০-১১ জন দুষ্কৃতী বাড়িতে চড়াও হয়ে সমীরের উপর হালমা চালায়।
অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূলের
নিহত পরিবারের অভিযোগ সমীরকে প্রথমে কুপিয়ে খুন করা হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে ২ রাউন্ড গুলিও চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের কথায়, সমীর ঘোষের সঙ্গে এলাকার তৃণমূল কর্মীদের দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। আর এই ঘটনায় তৃণমূলের কর্মীরাই সরাসরি যুক্ত। মূলত অভিযোগের তির তৃণমূলের স্থানীয় নেতা শত্রু ঘোষ ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। এদিকে এই খুনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা। তাঁদের দাবি এলাকায় বদনাম করানোর জন্য এই ধরনের মিথ্যে অভিযোগ আনা হচ্ছে। পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: দশমীর রাতে বিসর্জনকে কেন্দ্র করে অশান্তি আরামবাগে! পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ পুলিশের
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে একই ভাবে খুন হয়েছিল কংগ্রেসের নদিয়ার জেলা সহ সভাপতি আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান রহমানকে। দুষ্কৃতীরা রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় শ্যুটআউট করেছিল। পরপর গুলি করে গাড়িতে থাকা বাবা-ছেলেকে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। আর এবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল মালদায়। এখন দেখার এই ঘটনার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।










