মত বদলাতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে! স্মার্ট মিটারের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে মামলা

Published:

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থার কর্মীদের অবসানে বাধ্যতামূলকভাবে স্মার্ট মিটার (Smart Meter) বসানোর নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার। এ বিষয়ে রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিবের পক্ষ থেকে অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে চিঠি। তবে এ নিয়েই এবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) করা হল মামলা। কর্মচারীদের স্পষ্ট দাবি, স্মার্ট মিটার শুধুমাত্র সরকারি কর্মীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্যমূলক আচরণ। এ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত বদল করতে হবে।

সরকারি কর্মচারীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর নির্দেশিকা

সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মী, সরকারি অধীনত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, কর্পোরেশন বা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ও ভাতা পান এরকম কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট বৈদ্যুতিক মিটার বসাতে হবে। মুখ্য সচিবের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থাগুলির আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করার জন্যই এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এমনকি প্রাথমিকভাবে ডব্লিউবিএসইডিসিএল এর ৫৫৪টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের মধ্যে ১০৩টি কেন্দ্রের এলাকায় স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে বলেও খবর।

হাইকোর্টে গড়াল মামলা

তবে এই স্মার্ট মিটার বসানোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে সরকারি কর্মচারী সংগঠন। সেই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে শুরু হয়েছে আইনি তোড়জোড়। সরকারি কর্মচারীদের একাংশ এবং বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন এই সিদ্ধান্তকে বেআইনি এবং স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, এবং এ বিষয়ে একটি মামলাও করা হয়েছে।

কর্মচারী ইউনিয়ন এবং কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশনগুলির দাবি, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী সংসদে জানিয়েছিলেন, স্মার্ট মিটার গ্রাহকদের ইচ্ছা এবং পছন্দের উপরে নির্ভরশীল। এটি কারোর উপর বাধ্যতামূলকভাবে চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার নেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই নিয়ম তোয়াক্কা করছে না, এবং স্মার্ট মিটার বসানোর ফলে অনেকের বিদ্যুতের বিল আকাশছোঁয়া হচ্ছে। কারো কারো দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বিল আসছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। সেই কারণে এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করেই এবার কলকাতা হাইকোর্টের জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্মচারী সংগঠনের মূল যুক্তি, বিদ্যুৎ আইন বা সাধারণ আইন অনুযায়ী স্মার্ট মিটার শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা বৈষম্যমূলক।

আরও পড়ুন: ভারতের এক সিদ্ধান্তে নেপালের ৮৩টি চা কারখানায় ঝুলল তালা, হঠাৎ হল কী?

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার যুক্তি দিয়েছিল যে, বিদ্যুৎ বন্টনজনিত আর্থিক ক্ষতি কমানো আর ডিসকমগুলির আর্থিক হাল ফেরানোর জন্য এই স্মার্ট মিটার বসানো হচ্ছে। এই নতুন স্মার্ট মিটারগুলি আপাতত বর্তমানের মতো পোস্ট পেইড পদ্ধতিতে চলবে। বিলিং ব্যবস্থায় এখনই সেরকম কোনও বদল আনা হচ্ছে না। এমনকি মিটার স্থাপনের পর যদি কোনও গ্রাহক চান তাহলে তিনি স্বেচ্ছায় প্রিপেইড ব্যবস্থায় সুইচ করতে পারেন। তবে সেই নির্দেশিকার আপত্তি জানিয়েই এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সরকারি কর্মচারী সংগঠন।