সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের বিপাকে পড়ল রিলায়েন্স ক্যাপিটালের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনিল আম্বানি (Anil Ambani)। এবার প্রভিডেন্ট ফান্ডে ১৮১৬.২২ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই। এমনকি সংস্থার তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ইপিএফও-তে প্রতারণা, এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সেই কারণে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক গত ২১ জুলাই যে অভিযোগ দায়ের করেছিল তার ভিত্তিতেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে ফের এফআইআর
যদিও এই অভিযোগ সামনে আসতেই তা অস্বীকার করেছেন অনিল আম্বানি। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে রিলায়েন্স ক্যাপিটাল সংস্থায় ইপিএফও মোট ২৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। সেই সময় সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন অনিল আম্বানি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা মেটাতে ব্যর্থ হয় রিলায়েন্স ক্যাপিটাল। যদিও পরে ন্যাশনাল কোম্পানির ল ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তারা ১৪৯২ কোটি টাকা মিটিয়েছিল। কিন্তু সেখানে বকেয়া রয়ে গিয়েছিল ১৮১৬ কোটি টাকা।
সিবিআই আরও দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির কাছ থেকে অভিযোগ জানার পর শ্রম মন্ত্রক লিখিতভাবে তা জানায়। তার ভিত্তিতেই এই এফআইআর। এর পাশাপাশি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রিলায়েন্স ক্যাপিটাল এবং সংস্থার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এই প্রতারণামূলক লেনদেন করেছে। তবে অনিল আম্বানি এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন। এমনকি এ বিষয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: আরও শক্তিশালী হল নৌসেনা, হুগলি নদীতে নামানো হল ডাইভিং ক্রাফট জাহাজ
এ বিষয়ে আম্বানির মুখপাত্রের স্পষ্ট বক্তব্য, “কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সিবিআই এর দায়ের করা এফআইআর রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেড সম্পর্কিত। অনিল আম্বানি ২০০৫ সাল থেকে ২০২১ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত রিলায়েন্স ক্যাপিটাল লিমিটেডের নন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। এরপর ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাতিল করে একজন প্রশাসক নিয়োগ করেছিল। অনিল আম্বানি এরকম ধরনের কোনও অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত নন।” যদিও অভিযোগে বলা হয়েছে, এর আগে বিভিন্ন রকম জালিয়াতি মূলক লেনদেন পাওয়া গিয়েছে। এখন দেখার এই মামলা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।










