অনন্যা সরকার, নয়া দিল্লি: এবার আরও কড়া হতে চলেছে বার্থ ও ডেথ রেজিস্ট্রেশন (Birth and Death Registration) সংক্রান্ত আইন। বুধবার ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ জানিয়েছেন যে, জন্ম ও মৃত্যুর বিলম্বিত নিবন্ধনের নিয়মকানুন কঠোর করার লক্ষ্যে যে নতুন আইনের বিধানগুলি প্রণয়ন করা হয়েছে, সেগুলি আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। আইনের কোন কোন ক্ষেত্রে বদল এসেছে, আসুন জেনে নেওয়া যাক।
জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধনের আইন কার্যকর হচ্ছে আগামী মাসেই
গত মাসে সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর আইনে পরিণত হয়েছে। একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ জানিয়েছেন যে, আগামী ১ অক্টোবরকে এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর হওয়ার তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত আইনটি জন্ম ও মৃত্যুর বিলম্বিত নিবন্ধনের নিয়মগুলিকে আরও কঠোর করেছে এবং কোনও ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যুর দুই বছরেরও বেশি সময় পরে করা আবেদনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ এই আইন দ্বারা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন আইনটি ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ১৯৬৯’ (২০২৩ সালে সংশোধিত)-এর ১৩(৩) ধারাটি সংশোধন করেছে। এর উদ্দেশ্য হল বিলম্বিত নিবন্ধনের নিয়মগুলিকে আরও কঠোর করা। বিলে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এটি জন্ম ও মৃত্যুর ঘটনা যথাসময়ে জানানোর বিষয়টি যে গুরুত্বপূর্ণ, সেবিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করবে।
আরও পড়ুন: গাড়ি কেনা, বিদেশে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা! ৯ টার মধ্যে বন্ধ রেস্তরাঁ, জ্বালানি বাঁচাতে নিয়ম পাকিস্তানে
নতুন আইন অনুযায়ী, জন্ম বা মৃত্যুর এক বছর পর কিন্তু দুই বছরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করলে সেক্ষেত্রেও জেলা শাসক (DM), মহকুমা শাসক (SDM) বা তাদের অনুমোদিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের প্রয়োজন হবে। এই নতুন আইনে বলা হয়েছে যে, নির্ধারিত ফি প্রদানের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেই জন্ম বা মৃত্যুর সত্যতা যাচাই করবেন। নতুন আইনটিতে দুই বছর পর করা আবেদনের ক্ষেত্রে উচ্চতর বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা করার বিধান দেওয়া হয়েছে এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (প্রথম শ্রেণি)-এর আদেশের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বায়োমেট্রিক না মেলায় করতে পারছেন না রেশন কার্ডের ই-কেওয়সি? জেনে নিন সহজ সমাধান
প্রসঙ্গত, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ১৯৬৯ প্রণয়ন করা হয়েছিল জন্ম ও মৃত্যুর রেজিস্ট্রশনে নিয়ন্ত্রণ আনতে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ব্যবস্থাপনা করার জন্য। এই আইনের অধীনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং এই আইনের আওতায় ইস্যু করা শংসাপত্র আইনি পরিচয় প্রদান করে। কোনো ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু প্রমাণের ক্ষেত্রে বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। আইনটি ২০২৩ সালে সংশোধন করা হয় এবং সংশোধিত আইনের বিধানগুলি সেই বছরের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছিল। ভারত সরকার জানিয়েছে যে, এই সংশোধনীগুলির লক্ষ্য হল জন্ম ও মৃত্যুর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর সময়মতো নিবন্ধনের জন্য নাগরিকদের উৎসাহিত করা।










