সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে চাকরি দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই স্বচ্ছতা ফেরাতে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্য পুলিশ সহ বিভিন্ন দপ্তরে শূন্যপদের সংখ্যা কয়েক লক্ষে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এতদিন পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে চলত বাংলা। এমনকি পুলিশে যতটুকু নিয়োগ হয়েছে তাও সিভিক ভলেন্টিয়ারে সীমাবদ্ধ। তাছাড়া অবসরপ্রাপ্তদের মেয়াদ বাড়িয়েই চলত বিভিন্ন দপ্তরের কাজবাজ। এগুলির ইতি টানতে চাইছে নতুন সরকার।
আজই বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী
চাকরিতে স্বচ্ছতা ফেরানোর জন্য আজ অর্থাৎ শুক্রবার পাবলিক সার্ভিস কমিশন সহ মোট পাঁচটি রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগের সরকারের আমলে এসএসসি দুর্নীতি থেকে শুরু করে টেট দুর্নীতি, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি, পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য রাজনীতি। এমনকি চাকরি হারিয়েছিল হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীরা, যা নিয়ে হাইকোর্ট থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়িয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকার চাকরিতে স্বচ্ছতা ফেরানোর জন্য তৎপর।
সূত্রের খবর, আজ নবান্নে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, মিউনিসিপাল সার্ভিস কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ গ্রুপ ডি রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে একসঙ্গে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। সেক্ষেত্রে নিয়োগের পরীক্ষাতে বদল, আর্থিক লেনদেন বা অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এমনকি লিখিত পরীক্ষা বা এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশনের উপর নম্বর বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
যদিও আগে থেকেই রাজ্যের সবিচালয়, ডিরেক্টরেট এবং রিজিওনাল অফিসে মোট কত শূন্যপদে রয়েছে তা জানতে তথ্য চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি মোট ৪৪টি দপ্তরকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই নবান্ন এবার নতুন নিয়োগের পথে হাঁটতে চায়। ডিসেম্বরের মধ্যেই ৫০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার। সেক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবল মিলিয়ে ১০ হাজার আর কলকাতা পুলিশ আরও ৩ হাজার নিয়োগ করা হবে। রাজ্য সরকারের স্পষ্ট দাবি, তৃণমূল জামানায় যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে সেগুলোর ইতি টানা হবে এবং সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্তভাবে নিয়োগ করা হবে।










