সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাত পোহালেই ভাগ্য নির্ধারণ। আগামীকাল অর্থাৎ ৪ মে ভোট গণনা (West Bengal Election 2026)। সোমবার সকাল আটটা থেকে শুরু হচ্ছে এই মহরণ। তবে গণনার ঠিক আগেই বিরাট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। আগে রাজ্যে ৮৭টি গণনা কেন্দ্র নির্দিষ্ট থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা কমিয়ে ৭৭টি করা হয়েছে। আর এই কেন্দ্রগুলোতেই মোট ২৯৩টি আসনের জয় পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। উল্লেখ্য, একটি আসন অর্থাৎ ফলতায় গতকাল পুননির্বাচনের ঘোষণা করেছে কমিশন।
একনজরে গণনা কেন্দ্র
রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতার ১১টি আসনের ভোট গণনার জন্য এবার মোট পাঁচটি ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক গণনা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমনটা জানা যাচ্ছে—উত্তর ও মধ্য কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ সাতটি আসনের গণনা হবে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে। সেখানকার কেন্দ্রগুলি হল—চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা এবং কাশিপুর বেলগাছিয়া। এদিকে হাইপ্রোফাইল ভবানীপুর কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণ হবে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে। কলকাতা বন্দর আসনের গণনা হবে সেন্ট টমাস বয়েজ স্কুলে। রাসবিহারী ও বালিগঞ্জ কেন্দ্রের গণনা হবে বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাইস্কুল ও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাশাপাশি আলিপুর জাজেস কোর্ট চত্বরে বেহালা পূর্ব-পশ্চিম এবং হেস্টিং হাউসে টালিগঞ্জ, মেটিয়াবুরুজ ও মহেশতলার গণনা হবে।
এদিকে রাজ্যের জেলাগুলিতে আসনের সংখ্যা অনুযায়ী গণনা কেন্দ্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, উত্তর ২৪ পরগনায় সবথেকে বেশি ৩৩টি আসন থাকায় এবার মোট আটটি গণনা কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে তালিকায় রয়েছে—বারাসাত গভর্মেন্ট কলেজ, বসিরহাট পলিটেকনিক কলেজ, ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ, বনগাঁ দীনবন্ধু কলেজ ইত্যাদি। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও বিধানসভা কেন্দ্র বেশি থাকার কারণে এখানে ৬টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নদীয়া ও বর্ধমানে ৪টি করে কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে। আর মুর্শিদাবাদ, হুগলি, উত্তর দিনাজপুর প্রতিটি জেলায় ৫টি করে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ইত্যাদি ছোট জেলাগুলিতে একটি করে গণনা কেন্দ্র রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘১০-২০ হিন্দু হত্যা না করলে …’ মৌলানার মন্তব্যের পাল্টা দিলেন ইসকনের সহ সভাপতি
উল্লেখ না করলেই নয়, গণনা কেন্দ্রগুলোতে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না হয়, তার জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যেই ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও কেন্দ্র বাহিনীর কড়া পাহারা তো থাকবেই। আর গণনা কেন্দ্রের ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্তে নজরদারি চালানো হবে। আর এজেন্ট এবং কর্মীদের প্রবেশের জন্য কড়া পরিচয়পত্র পরীক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে।










