প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই এবার একের পর এক দুর্নীতির খবর বেরিয়ে আসছে। কাটমানি থেকে শুরু করে জমি দখল কোনটাই বাদ যাচ্ছে না। আর এবার বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ উঠল নৈহাটি (Naihati) পুরসভার তৃণমূলের এক কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে আবার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায় করতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে বিদ্যুৎ দফতররের আধিকারিকদের। জানা গিয়েছে ইসলামপুর (Islampur) ব্লকের তৃণমূল (All India Trinamool Congress) পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বাড়িতে নাকি কয়েক হাজার নয়, কয়েক লক্ষ টাকার বিল দেওয়া এখনও বাকি আছে।
বিশেষ যন্ত্র লাগিয়ে কারচুপি
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিগত কয়েকদিন ধরেই নৈহাটির ইশক সরদার রোডে বিদ্যুতের বিল নিয়ে নানারকম তছরূপের অভিযোগ উঠে আসছিল। আর তাই সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আচমকা অভিযান চালিয়েছিল বিদ্যুৎ দপ্তর। তখনই নজরে আসে নৈহাটি পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মনোয়ারা বিবির বাড়ি-সহ একাধিক বাড়িতে বিদ্যুৎ মিটারে বেআইনি ভাবে বিশেষ যন্ত্র লাগানো আছে। যার ফলে সেখানে বিদ্যুৎ বিল কম আসছে। এর পরই দপ্তরের আধিকারিকরা নৈহাটি থানার পুলিশের সাহায্য নিয়ে ওই বাড়িগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়।
তদন্ত চালাচ্ছে নৈহাটি থানার পুলিশ
কাউন্সিলার মনোয়ারা বিবির দাবি, গরমে পরিবারগুলি কষ্ট পাচ্ছিল বলে এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এদিকে এই ঘটনায় প্রতিবাদী স্বর তুলেছেন এলাকার অনেকেই। তাদের দাবি, এই বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য তাঁদের সমস্যা হচ্ছিল। পুরো ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে নৈহাটি থানার পুলিশ। অন্যদিকে কয়েক লক্ষ টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ উঠতেই প্রধানের বাড়ি এবং হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে দপ্তরের তরফ থেকে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর ব্লকের গুঞ্জুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
৯ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল বাকি প্রধানের
আরেক দিকে, বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে মালদহ জোনাল ও ইসলামপুর মহকুমা বিদ্যুৎ দফতরের যৌথ উদ্যোগে অভিযান শুরু হয়েছিল। সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল যে গুঞ্জুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান মহম্মদ হুদার নামে প্রায় ৯ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল বহু দিন থেকেই বকেয়া পড়ে রয়েছে। বারংবার চিঠি পাঠালেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। শেষে এদিন তাঁর বাড়ি ও হোটেলের ইলেকট্রিকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এদিকে ঘটনার খবর চাউর হতেই তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও জোরদার চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের চিঠিতে সায়নী-রচনার সই! তালিকায় আর কে কে?
ইসলামপুরের সাব-ডিভিশনাল ম্যানেজার শমীর চৌধুরী ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে সাফ জানিয়েছেন, যে সমস্ত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিল বকেয়া রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান চলবে। তাই ভুলেও কেউ যেন অনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে। অন্যদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ হুদার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।










