সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজনীতিতে যোগদান করলে মানুষের পা এমনিতেই মাটিতে পড়ে না! আর তিনি যদি বিধায়ক বা মন্ত্রী হন, তাহলে তো নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না! চালচলনই বদলে যায় তাঁর। কিন্তু সেই ধারাকে একদিকে ফেলে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বীরভূমের সাঁইথিয়া (Sainthia) বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহার (Krishna Kanta Saha) বাবা আনন্দমোহন সাহা। হ্যাঁ, ছেলে বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও নিজে এখনও পর্যন্ত তাঁর পুরনো পেশাকে ভুলে যাননি। নিয়ম করেই তিনি চালান মুদিখানা, চা ও তেলেভাজার দোকান।
মাটির সঙ্গে মিশে থাকেন বিধায়কের বাবা!
আসলে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের সাঁইথিয়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির কৃষ্ণকান্ত সাহা। তাঁর বিপরীতে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের লীলাবতী সাহা, যাকে তিনি এবার ১০,৩০৬ ভোটে পরাজিত করে বিধায়কের আসনে বসেছেন। মে মাসের ১৪ তারিখে কৃষ্ণকান্ত সাহা বিধায়ক হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। কিন্তু তারপও বিধায়কের বাবা আনন্দমোহন সাহা বীরভূমের দেউচায় একটি ছোট্ট মুদিখানার দোকান চালান।
তবে যেখানে ছেলে বিধায়ক হওয়ায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করার কথা বাবার, সেখানে দেখা মিলল এক আলাদা চিত্র। আগে থেকেই তাঁর বাবার একটি মুদিখানা দোকান ছিল। যেখানে তিনি চা এবং তেলেভাজাও বিক্রি করতেন। তবে ছেলের সাফল্যের পরও তিনি সেই অতীত ভুলে যাননি। নিয়মিতভাবেই সেই মুদিখানা দোকান চালিয়ে যাচ্ছেন আনন্দমোহন সাহা। এক কথায়, ছেলের রাজনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক সচ্ছলতা তাঁর দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করতে পারেনি। তিনি তাঁর সেই পরিশ্রমের কাজেই অটল থেকেছেন, যা দেখে ধন্য ধন্যি করছে সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুন: বর্ষা এলেও কমেনি তাপপ্রবাহ, কয়েকটি জেলার স্কুলে গরমের ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “ছেলে বিধায়ক। বাবার কোথায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করার কথা, সেখানে তিনি সেই মাটির সঙ্গে মিশে রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত চা, তেলেভাজার দোকান চালাচ্ছেন।” কেউ কেউ বলছেন, “এটাই হচ্ছে আমাদের বিজেপি কার্যকর্তার পরিবারের আদর্শ। সততা এবং আদর্শের নিদর্শন জীবনের প্রতি ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায়। উনি খুব ভালো মানুষ। এইতো সেদিন বসেই গল্প করলাম, চা খেয়ে আসলাম। আমি বললাম খুচরো পয়সা নেই। উনি আমাকে আদর করে বললেন যে পরে দিয়ে যাবি।”










