হৃদযন্ত্রে ত্রুটি, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত! দ্বাদশ শ্রেণীতে অভাবনীয় সাফল্য পিতৃহারা সৃজনীর

Published:

ISC Result 2026

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নিজের জেদ আর ইচ্ছাশক্তির কাছে সবকিছুই হার মানে। সেকথা আবারও প্রমাণ করলেন সৃজনী। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাবার মুখাগ্নি করতে হয়েছিল মেয়েকে। বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়েই তাঁর দায়িত্ব পালন করবে। সেখান থেকেই শুরু লড়াই। তবে লড়াইটা অতটা সহজ ছিল না। শরীরের রক্তে মিশে রয়েছে থ্যালাসেমিয়া, আর হার্টে অস্ত্রোপচার! সবকিছুকে উপেক্ষা করে পাহাড়সম জেদ নিয়ে কলকাতার রামমোহন মিশন হাইস্কুলের ছাত্রী সৃজনী সাহু আজ আইএসসি পরীক্ষায় সফল (ISC Result 2026) হয়ে প্রমাণ করলেন যে ইচ্ছেশক্তি থাকলে আকাশছোঁয়াও সম্ভব।

জন্মের তিন মাস থেকেই শুরু লড়াই

সৃজনীর জীবনটা অনেকটা সিনেমার মতো। বাবার ছিল ওড়িশার ছেলে আর মা বাঙালি। প্রেমের মাধ্যমেই বিয়ের পিড়িতে বসা। তবে তাঁদের জীবনে যখন সৃজনী এল তখন খুশির বদলে ফিরল দুশ্চিন্তা। কারণ, জন্মের মাত্র তিন মাস বয়সেই তাঁর হৃদরোগে জন্মগত ত্রুটি ধরা পড়ে। তড়িঘড়ি করতে হয় অস্ত্রোপচার। জানা যায়, সৃজনী থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। সেই কারণে প্রতি ১৫ দিন অন্তর তাঁকে দু’বোতল করে রক্ত নিতে হয়। এমনকি পরীক্ষার ঠিক আগে অসুস্থ শরীর নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তবে হার মানেননি সৃজনী।

তবে গল্পটা এখানে নয়। সৃজনী জন্মানোর কিছুদিন পরেই তাঁর বাবার মুখগহ্বরে ধরা পড়ে মারণরোগ ক্যান্সার। তবে নিজের চিকিৎসা বন্ধ করেই সেই টাকা জমিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করেন বাবা। বাবার সেই আত্মারত্যাগের কথা মনে পড়লে চোখ ভেজে সৃজনীর। তাঁর কথায়, “বাবা বলতেন আমি উনার মেয়ে। আমি উনার ছেলে। অথচ ছোট্ট বয়সে বাবার মুখাগ্নি করার স্মৃতি আমার মনে আজও টাটকা। বাবাকে কথা দিয়েছিলাম আমি কোনও দিন পড়াশোনা ছাড়বো না। ছাড়িনি।”

আরও পড়ুন: কমবে সোনার দাম? ভারতে ১০৪.৩ মেট্রিক টন গোল্ড ফিরিয়ে আনল RBI

বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার আজাদগড়ে মা মধুমিতা সাহুর সঙ্গেই থাকেন সৃজনী। ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন তাঁরা। ২০১৯ সালে দাদু-দিদিমার মৃত্যুর পর মা এক ফিজিওথেরাপি কেন্দ্রে কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালান। অভাব অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী। আর মেয়ের বিপুল পরিমাণ চিকিৎসার খরচ, সবটাই তাঁর একার হাতে। তবে প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়েও সৃজনী বাংলায় ৮৮, ইংরেজিতে ৮২, ইতিহাসে ৬০ এবং ভূগোলে ৬১ নম্বর পেয়ে পাশ করেছেন। আগামী দিন তিনি সাইকোলজি নিয়ে পড়তে চান। তাঁর কথায়, শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মনের যত্ন নেওয়া বেশি জরুরী। সেই কারণে মনোবিদ হয়ে মানুষের সেবা করতে চান তিনি।