প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ক্ষমতার রদবদল হতেই একের পর এক তোলাবাজির অভিযোগ উঠে আসছে। গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূলের বহু কাউন্সিলর, আর এবার সেই তালিকায় নাম নথিভুক্ত হল ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) ‘ঘনিষ্ঠ’ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলর শামস ইকবালের (Shams Iqbal)। জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ৭০ লক্ষ টাকার তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি রাজনৈতিক মহলে।
গ্রেপ্তার শামস ইকবাল
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, শামস ইকবাল হলেন কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ। এছাড়াও তিনি মেটিয়াবুরুজের ব্যবসায়ী। ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল ৭০ লক্ষ টাকার একটি তোলাবাজির মামলা। এবার রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সেই মামলায় তদন্তের ভিত্তিতেই গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। শুধু তোলাবাজির অভিযোগই নয়, শামস ইকবালের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ধারাতেও মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমনকি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রাণনাশের হুমকি দিতেন ধৃত কাউন্সিলর
অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে, শামস ইকবাল নাকি টাকা তোলার নিয়ে নানা চাপ দিত, টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ এবং পরিবারের লোকজনের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হত। এমনকি টাকা নেওয়ার পরেও বারবার হুমকি পর্ব চলত। এই ঘটনায় শামস ইকবাল ওরফে অনিল, মহম্মদ ফারাজ ওরফে বুন, ফিরোদ কুরেশি ওরফে চুরি ফিরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কাউন্সিলর হওয়ার পর কলকাতা পুরসভায় কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি চড়ে বিতর্কে জড়ান তিনি। এছাড়াও শামসের বাবা মুন্না ইকবালের বিরুদ্ধেও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। গার্ডেনরিচে পুলিশকর্মী তাপস চৌধুরী হত্যাকাণ্ডেও নাম জড়িয়েছিল তার।
আরও পড়ুন: তোলাবাজি থেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে, তদন্তে পুলিশ
তোলাবাজি মামলায় একের পর এক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলরদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ প্রশাসন। এদিকে, তোলাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পানিহাটির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জয়ন্ত দাস। তৃণমূল সরকারের আমলে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে একাধিকবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল কিন্তু কোনো কাজেই আসেনি। নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। তবে এবার তদন্তে নামল পুলিশ।










