সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আরও এক মামলার গ্যাঁড়াকলে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এমনিতেই তৃণমূলের হারের পর একাধিক থানায় একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এবার নতুন অভিযোগে ফলতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপির নেতা অভিজিৎ দাস। এমনিতেই আমফানের ত্রাণ দুর্নীতিতে আগে ২৫০ কোটি টাকার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। আর এবারের অভিযোগে দুর্নীতির পরিমাণ ৪৭ কোটি টাকা।
ফের অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিজেপি নেতার অভিযোগ অনুযায়ী, এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গীর খান সহ তৎকালীন বিধায়ক শঙ্করকুমার নস্কর সহ বেশ কিছু সরকারি আধিকারিকরা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ইতিমধ্যেই নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে ত্রাণ সামগ্রী দুর্নীতির অভিযোগে বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। আর এবার ফলতা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখিয়েছেন অভিজিৎ দাস। পাশাপাশি প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সই জালিয়াতি, মাটি চুরি, উস্কানিমূলক মন্তব্য সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি একাধিকবার ইডি এবং সিআইডি দফতরে হাজিরাও দিয়েছেন তিনি।
গত ১৯ জুন ফলতা থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ফলতার তৎকালীন বিডিওসহ একাধিক সরকারি আধিকারিক এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। আমফানের ত্রাণ, বাড়ি তৈরি, মৎস্যজীবীদের নৌকা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে মোটামুটি ৪৭ কোটি টাকা। যার মদত দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিজিৎ দাসের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি মোবাইল নম্বরে একসঙ্গে ২৫ থেকে ২০ জনের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, এবং একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৫ থেকে ২০ জনের নাম দেওয়া হয়। তাঁর আরও অভিযোগ, যারা আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত তাদের টাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাঁর দলবল লুট করেছিল। এমনকি তাও প্রশাসনের সহযোগিতায়।
আরও পড়ুন: ‘যত বড়ই মন্ত্রী হোক না কেন…দুর্নীতি করলেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত!’ স্পষ্ট নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
না বললেই নয়, ২০২০ সালে আমফান ঝড়ে প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং সুন্দরবন এলাকা। ধ্বংসস্তূপের তলায় চলে যায় একাধিক বাড়ি। যাদের বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছিল তাদের পরিবার পিছু ২০ হাজার টাকা করে সাহায্য করা হয়েছিল, এবং যাদের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তাদেরকে পরিবার পিছু ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করে সরকার। ইতিমধ্যেই সেই বাড়ি তৈরির টাকায় ২৫০ কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আর এবার ত্রাণ দুর্নীতির আরও ৪৭ কোটি টাকার অভিযোগ অভিষেকের বিরুদ্ধে।










