বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ক্ষমতায় আসতেই পুরনো একাধিক নিয়মে বদল আনছে বাংলার বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal)। রাজ্যে ধর্মীয় কারণে পশুবলি বা কোরবানি নিয়ে এবার নতুন নির্দেশিকা দিল রাজ্য সরকার। বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, বাংলায় যত্রতত্র প্রকাশ্যে ছাগল থেকে শুরু করে গরু, বলদ, মহিষ এমনকি বাছুরের মতো গবাদি পশু বলি দেওয়া যাবে না। সরকারের তরফে পাওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে জারি হচ্ছে একাধিক কঠিন শর্ত।
পশু বলির আগে নিতে হবে শংসাপত্র
রাজ্য সরকারের নতুন নিয়ম বলছে, এবার থেকে পশু বলির ক্ষেত্রে তার উপযুক্ততা সম্পর্কে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। পশু বলি দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্ট যুক্তি দিতে হবে ব্যক্তিকে। তারপরই সরকারের অনুমোদিত শংসাপত্র মিলবে। আর এই শংসাপত্র পেলে তবেই নির্দিষ্ট জায়গায় পশু বলি দেওয়া যাবে। জানা যাচ্ছে, শংসাপত্র যৌথভাবে দেবেন সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান, গ্রামাঞ্চলে হলে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও একজন সরকারি পশুচিকিৎসক।
সরকারের তরফে এও জানানো হয়েছে, সেইসব পশুকেই বলি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে যাদের বয়স কমপক্ষে 14 বছর। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট বয়সের নিচে থাকা কোনও পশু বলি দেওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। একই সাথে, বার্ধক্যজনিত সমস্যা থেকে শুরু করে দুরারোগ্য রোগ এমনকি অন্য কোনও ব্যাধির কারণে পশু যদি কর্মক্ষমতা হারায়, সে ক্ষেত্রেও সরকার গোটা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবে।
প্রকাশ্যে পশু বলি নিষিদ্ধ
সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পশু বলির জন্য প্রয়োজনীয় শংসাপত্র মিললেও প্রকাশ্যে অর্থাৎ যত্রতত্র পশু বলি দেওয়া যাবে না। রাস্তার পাশে কিংবা খোলা জায়গায় অর্থাৎ প্রকাশ্যে পশু বলি দেওয়া নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানাগুলিতে পশু বলির কাজ করা যেতে পারে। জানানো হয়েছে, একজন ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট শংসাপত্র না পান তবে তিনি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে 15 দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারেন।
অবশ্যই পড়ুন: নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করল LPG ভর্তি ভারতীয় ট্যাঙ্কার এমভি সানশাইন
নির্দেশিকা অমান্য করলে হবে শাস্তি
কলকাতা হাইকোর্টের পশু বলি এবং গণবলির উপর পুরনো এক নির্দেশিকা ছিল। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা আইন 1950 এর প্রয়োগ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। মূলত জনসাস্থ্য এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই খবর। সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি পশু বলি না দেন অর্থাৎ সরকারের নিয়ম লংঘন করেন সে ক্ষেত্রে তিনি যদি দোষী প্রমাণিত হন তবে তাঁর 6 মাসের কারাদণ্ড বা 1000 টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা দুটোই হতে পারে।










