কেটে দেওয়া হবে এদের জল-বিদ্যুতের লাইন, জানিয়ে দিল রাজ্য সরকার

Published:

Mamata Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই এবার কলকাতার বুকে চলল বুলডোজার। তপসিয়ার চামড়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে সামনে রেখে বেআইনি নির্মাণ (Illegal Construction) নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যাঁদের বিল্ডিং প্ল্যান নেই, সেই সমস্ত অবৈধ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই কারখানার সমগ্র বহুতল ভাঙার কাজ শুরু করে দেওয়া হয়। এলাকায় যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না-হয়, তা নিশ্চিত করতে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বেআইনি নির্মাণ নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতি

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেসিবি দিয়ে তপসিয়ার চামড়ার কারখানার সমগ্র বহুতলটি ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বহুতলটি অবৈধ ভাবে নির্মিত, তাই ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। আলাদা করে কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর, একবালপুরের মতো এলাকার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, যাঁদের বিল্ডিং প্ল্যান নেই, তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জলের লাইন কেটে দেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হবে

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন, “CESC-কে বিদ্যুৎ সচিবের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, যত এই ধরনের বিল্ডিং আছে, যাদের বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন নেই, তাদের বিদ্যুৎ পরিষেবা ডিসকানেক্ট করতে হবে সরাসরি। পাশাপাশি কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনকেও বলা হয়েছে, এই ধরনের অবৈধ, বিপজ্জনক কারখানাগুলিতে জলের লাইন যেন কেটে দেওয়া হয়। অবৈধ নির্মাণ নিয়ে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলবে। তাই যাঁরা সতর্ক হতে চান, সতর্ক হয়ে যান। যাঁরা বেআইনি কাজকর্ম করছেন, তাঁদের আমরা এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে কড়া নির্দেশ দিচ্ছি।”

আরও পড়ুন: ভোটের প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ? স্বচ্ছতার আপডেট দিতে রিয়েল টাইম ট্র্যাকার রাজ্য সরকারের

প্রসঙ্গত, তপসিয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে আরও কয়েক জন চিকিৎসাধীন। অগ্নিদগ্ধ সেই চামড়ার কারখানার মালিক জাফর নিশার-সহ দু’জনকে বুধবার সকালেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আগেই তিলজলার ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দিয়ে জন্য হয়েছিল যে কারখানার বহুতলটির কোনও বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না। অগ্নিনির্বাপনের বন্দোবস্তও ছিল না। তারপরেই অ্যাকশনে নামে সরকার। এদিকে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বহুতল ভেঙে দেওয়াকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। এবং বহুতলের ভাড়াটেদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।