২০১১-র পর থেকে ইস্যু সমস্ত কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাই করা হবে, বিরাট পদক্ষেপ রাজ্যের

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলায় ক্ষমতায় আসতেই একের পর এক কঠিন পদক্ষেপ নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal)। এবার কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় থেকে জারি করা নির্দেশিকায় রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের একেবারে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, 2011 সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া প্রতিটি কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাই করে দেখতে হবে। জাতিগত শংসাপত্রগুলির সত্যতা যাচাই করার পর কোনও ত্রুটি থাকলে সেগুলি তৎক্ষণাৎ বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের তরফে।

হঠাৎ কেন এমন পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিবালয় থেকে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, 2011 সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রায় 1 কোটি 69 লাখ জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। এরমধ্যে 47 লাখ 80 হাজার সার্টিফিকেট তৈরি হয়েছে দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে। এছাড়াও এই সময়ের মধ্যে সেকেন্ড জেনারেশন কাস্ট সার্টিফিকেট বা জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু করা হয়। তবে 2011 সালের পর থেকে ইস্যু করা বহু কাস্ট সার্টিফিকেটের সত্যতা এবং বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মূলত সে কারণেই এবার রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বিলি করা কাস্ট সার্টিফিকেটের বৈধতা অর্থাৎ যিনি কাস্ট সার্টিফিকেট পেয়েছেন তিনি ওই শংসাপত্রের জন্য কতটা যোগ্য তা যাচাই করতে হবে। এই মর্মে প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

রাজ্য সরকারের তরফে এও জানানো হয়েছে, প্রত্যেক মহাকুমা শাসককে কাস্ট সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দিতে হবে তাঁরা যেন দ্রুততার সাথে প্রত্যেকটি কাস্ট সার্টিফিকেট বা জাতিগত শংসাপত্রের সত্যতা এবং বৈধতা যাচাই করেন। একই সাথে যেসব ব্যক্তির নাম SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাদের জাতিগত শংসাপত্র বর্তমান আইন এবং বিধি অনুযায়ী বাতিল করতে হবে। এক কথায়, কোনও অবৈধ ব্যক্তি যাতে জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে রাখতে না পারেন সেটা নিশ্চিত করতেই তৎপর প্রশাসন।

অবশ্যই পড়ুন: ২০২৭ ODI বিশ্বকাপে খেলবেন বিরাট কোহলি? বড় ঘোষণা

ওই নির্দেশিকায় খুব পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছে, প্রত্যেকটি কাস্ট সার্টিফিকেট ধরে ধরে পরীক্ষা করতে হবে। সেগুলির মধ্যে যাঁদের কাস্ট সার্টিফিকেট ভুয়ো বা অবৈধ প্রমাণিত হবে সেগুলিকে তৎক্ষণাৎ বাতিল করার পাশাপাশি ওই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় সরকার কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করবে না।