সৌভিক মুখার্জী, বারুইপুর: গণধর্ষণ কাণ্ডে তোলপাড় গোটা বারুইপুর (Baruipur Rape Case)। ১১ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুন করে ভাসিয়ে দেওয়া হয় পুকুরে। রবিবার সকালে মেলে মৃতদেহ। তারপর থেকেই একেবারে রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে গোটা বারুইপুর। উত্তেজিত আমজনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে মূল অভিযুক্তের। অন্যদিকে বাকি আরও তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এরই মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধীরা স্থানীয় বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন, তিনি নাকি অপরাধীদেরকে ছাড়িয়ে আনতে সাহায্য করেছেন! আদৌ কি তাই?
শান্তনু মন্ডলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
স্থানীয় বাম ও তৃণমূল কর্মীরা এই গণধর্ষণ কাণ্ডে সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলছে। এক বাম সমর্থককে বলতে শোনা যায়, বিজেপি সমর্থকরাই ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করেছে। এমনকি বিজেপির নেতা শান্তনু মন্ডলের নির্দেশে নাকি পুলিশ ওই অভিযুক্তদেরকে ছেড়ে দিয়েছে। তবে এই অভিযোগ উঠতেই সামনে আসে আরও একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, বাচ্চাটিকে কোথায় ফেলা হয়েছিল তা দেখাতে যাওয়া এক অভিযুক্তকে নিজেই মারতে মারতে নিয়ে আসে শান্তনু মন্ডল। এমনকি সেখানেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, “অনেক তৎপরতার সাথে এই আসামিকে ধরা হয়েছে। গতকাল রাত থেকেই আমরা বাচ্চাটিকে খোঁজার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু দুঃখিত, তাঁর মায়ের কোলে তাঁকে ফিরিয়ে দিতে পারলাম না। বাচ্চাটিকে নৃশংসভাবে রেপ করে মার্ডার করেছে। এগুলি হচ্ছে সমাজের কীটপতঙ্গ।”
এমনকি সংবাদমাধ্যমের সামনে শান্তনু মন্ডলকে বলতে শোনা যায়, “বাচ্চাটি মিসিং হয়েছে তা জানার পর আমরা তৎপরতার সঙ্গেই থানায় আসি। সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দেখা যায়, চারজন মিলে বাচ্চাটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে খুন করে ওই পুকুরে ভাসিয়ে দেয়। তবে আমরা মূল অভিযুক্তকে প্রথমে তুলে আনি, এবং তাকে অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সে স্বীকার করে। তবে এই ঘটনার পিছনে কোনও রাজনৈতিক চক্রান্ত নেই। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করব, যাতে এই সমস্ত সমাজবিরোধী মানুষজনকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।”
আরও পড়ুন: ভিনিয়াসের বদলে কেন পেনাল্টি করতে গেলেন ব্রুনো? হারের পর মুখ খুললেন ব্রাজিলের কোচ
উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যার দিকে ওই বাচ্চা মেয়েটি খাবার কিনতে বেরোয়। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেনি সে। রাতভর তল্লাশির পর রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকেই ওই নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় এক অভিযুক্তের। মৃত অভিযুক্তের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি। এছাড়া বাকি তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি গতকাল অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে কুলপি রোডে ওই নাবালিকার মৃতদেহ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে আমজনতা। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদের উপরও হামলা করা হয় বলে খবর। কিন্তু শান্তনু মন্ডলের উপর রাজনৈতিকভাবেই যে কালি লাগানো হচ্ছে, তার আদৌ কোনও সত্যতা নেই।










