প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের ক্ষমতার রদবদল হতেই সরকারি কর্মীদের (Government Employees) হাজিরা নিয়ে কড়াকড়ি হয়েছে নবান্ন (Nabanna)। সম্প্রতি কাজে গতি বাড়াতে অফিসে ঢোকা এবং বেরোনোর সময় নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর আজ থেকেই সেই নিয়ন কার্যকর হতেই ভিন্ন চিত্র দেখা গেল সরকারি অফিসে। সকাল সাড়ে ৯ টার মধ্যেই কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।
কর্মীদের জন্য বিশেষ বার্তা নবান্নের
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছিল যে, ১৫ জুন থেকে নবান্নে বাধ্যতামূলক ‘ফেস রিকগনিশন’ বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু হবে। এবং ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে এই ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে। ছাড় পাবেন কেবল দফতর প্রধানরা। এখানেই শেষ নয়, সরকারি কর্মীদের কাজের সংস্কৃতি ঠিক রাখতে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে সমস্ত কর্মীদের অফিসে ঢোকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস ছাড়া যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। কিন্তু সকাল ১০ টা বেজে ১৫ মিনিটের পর থেকে ১১টার মধ্যে উপস্থিত হলে ‘লেট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
কর্মীদের বাড়তি তৎপরতা
নির্দেশিকা অনুযায়ী সকাল ১১টার পর অফিসে পৌঁছলে ‘অনুপস্থিত’ হিসেবে গণ্য করা হবে সরকারি কর্মীদের। এবং বিকেল ৫টা বেজে ১৫ মিনিটের আগে অফিস থেকে বেরোলে ‘আর্লি ডিপার্চার’ ধরা হবে। এছাড়াও মাসে প্রতি তিনদিন লেট বা আর্লি ডিপার্চারের জন্য একদিনের CL/CCL কাটা হবে বলেও জানানো হয়েছে। আজই ১৫ জুন, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর আজ ছিল কার্যত প্রথম পূর্ণ কর্মদিবস। সকাল থেকেই নবান্নে নজরে পড়ে কর্মীদের বাড়তি তৎপরতা। বহু সরকারি কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নবান্নে পৌঁছে গিয়েছেন। তবে কিছু কর্মীকে নির্ধারিত সময়ের পরেও অফিসে ঢুকতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় এসেই আরজি কর কাণ্ডে অ্যাকশন শুভেন্দু সরকারের, নবান্নে জমা পড়ল রিপোর্ট
প্রসঙ্গত, অফিসে আসা ও বেরোনোর সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি কর্মীদের একাংশ। অনেকের মতে, সরকারের এই নিয়মে একদিকে যেমন কাজের পরিবেশ আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে ঠিক তেমনই আবার প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়বে। অর্থাৎ নতুন সরকারের এই পদক্ষেপকে সরকারি কাজে শৃঙ্খলাবোধ মেইনটেইন করার এক বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন অনেকে। যদিও এখন দেখার এই নতুন নিয়ম কতটা কঠোরভাবে কার্যকর হবে। কর্মীদের মধ্যেও বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।










