মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই অ্যাকশনে পুলিশ, হুমায়ুনের সভা বিতর্কে গ্রেফতার দুই

Published:

Humayun Kabir Controversy

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিগত, কয়েকদিন ধরেই রেজিনগরে (Rejinagar) বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের হুমকি (Humayun Kabir Controversy) ঘিরে তোলপাড় হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। আর এবার সেই উস্কানিমূলক মন্তব্যের ক্ষেত্রে বিরাট অ্যাকশন নিল পুলিশ! জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এনিয়ে বিধানসভায় আইনি বিবৃতি দেওয়ার পর পরই রাতেই গ্রেপ্তার করা হল হুমায়ুনের ওই সভার আয়োজকদের। গোটা বিষয় ঘিরে রীতিমত চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, শুরু হল নয়া বিতর্ক।

ঠিক কী ঘটেছিল?

গত ২৬ জুন, রেজিনগরের কাশীপুর এলাকায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেখানেই হুমায়ুন কবীর বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। একের পর এক হুমকি, হুঁশিয়ারি রীতিমত হিংসা মূলক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল সমাজে। আর সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিরোধী শিবিরের তরফে কড়া সমালোচনাও শুরু হয়। বিধানসভায় গতকাল এর তীব্র নিন্দা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এরপরই কড়া অ্যাকশনে নামল পুলিশ প্রশাসন। গ্রেপ্তার করা হল হুমায়ুনের সভার দুই আয়োজকদের।

গ্রেপ্তার দুই আয়োজক

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম আমিনুল শেখ এবং গোলাম মোস্তাফা, দু’জনকেই রেজিনগর থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিতর্কিত সভার আয়োজনের সঙ্গে দু’জনেরই প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। মূলত গোলাম মোস্তাফাই রেজিনগর থানার কাছে ওই জনসভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন এবং সভার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও ছিলেন। অন্যদিকে, আমিনুল শেখও অনুষ্ঠানের অন্যতম সংগঠক হিসেবে কাজ করেছিলেন। পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার তাঁদের বহরমপুর জেলা আদালতে তোলা হবে। সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ১৫ জুলাই অবধি চলবে মর্নিং স্কুল? অবশেষে বিজ্ঞপ্তি জারি বিকাশ ভবনের

প্রসঙ্গত, গতকাল, সোমবার বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট পাল্টা হুঁশিয়ারি ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, “ আগের মত দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী আমি নই, উসকানিমূলক বক্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রথমে যাঁরা ওই সভার আয়োজন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধেও। এভাবে আপনাকে বেপরোয়া মন্তব্য আর করতে দেব না, দেব না, দেব না।” পাশাপাশি তিনি এটিকেই শেষ সতর্কবার্তা বলেও জানিয়েছিলেন।