হুগলি নদীর পাড়েই পড়ে শয়ে শয়ে মরা ইলিশ, ভয়াবহ মাছের মড়ক গঙ্গায়

Published:

Hooghly River

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যে রুপালী শস্যের দাম সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে, তার এখন করুণ দুর্দশা। হুগলি নদীতে (Hooghly River) ভয়াবহ মাছের মড়ক। নদীর দুই পাড়ে শয়ে শয়ে পড়ে রয়েছে মরা ইলিশ। এমনকি পচাগলা অবস্থা মাছগুলির। স্থানীয়দের দাবি, অতিরিক্ত বর্ষায় জল দূষণের কারণেই এই করুণ পরিস্থিতি। কার্যত কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মৎস ব্যবসায়ীদের। এমনকি শুধু ইলিশ নয়, মড়ক লেগেছে আরও বিভিন্ন মাছে।

হুগলি নদীতে ইলিশের মড়ক

আসলে বিগত কয়েকদিন ধরেই নদীর পশ্চিম পাড়ে বিপুল সংখ্যক মরা ইলিশ মাছ পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি নদীর অন্য পাড়েও একই ছবি। ইলিশের পাশাপাশি ভোলা, ট্যাংরা, চিংড়ি সহ বিভিন্ন মাছ মরছে গত দু’দিন ধরে। যেখানে বর্ষার সময় দু’পয়সা লাভ করবে ব্যবসায়ীরা, সেখানে এহেন পরিস্থিতিতে শিরেসংক্রান্তি অবস্থা তাঁদের। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কথায়, “সকালে নদীতে স্নান করতে এসেই দেখি প্রচুর মাছ মরে ভাসছে। প্রতিবছর বর্ষার সময় নদীতে সমস্যা দেখা যায়। তবে এবার মাত্রাতিরিক্ত। এতে আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।”

উল্লেখ্য, বর্ষার সময় ইলিশের ব্যবসা করেই একটু লাভের মুখ দেখেন ব্যবসায়ীরা। নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা যেমন ফুলেশ্বর, বাউরিয়া, উলুবেড়িয়া ইত্যাদি জায়গায় জল দূষণের কারণে নদীতে এই মাছের মড়ক লেগেছে বলে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। এমনটি বিগত বর্ষার দিনগুলিতে এহেন চিত্র দেখা গেলেও এবার মাছের মড়ক মাত্রা ছাড়িয়েছে বলেই জানাচ্ছেন তাঁরা। এক ব্যবসায়ীর কথায়, “নদীর জল অতিরিক্ত দূষণের কারণেই মাছগুলি মরে ভেসে উঠছে। এরকমভাবে চলতে থাকলে আমরা মৎস্যজীবীরা না খেতে পেয়ে মরব।”

আরও পড়ুন: বিদেশে যাওয়ার আগেই ফ্রিজ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক

রবিবার থেকেই এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে হুগলি নদী তীরবর্তী এলাকায়। স্থানীয় কালীনগর, রাঙামাটি, জগদীশপুর বাঁশতলা ইত্যাদি এলাকায় মাছের মড়কের চিত্র একেবারে মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি খোকা ইলিশ থেকে শুরু করে বড় বড় সাইজের ইলিশগুলি মরে ভেসে উঠছে। এমনকি সেই কারণে প্রভাব পড়ছে বাজার দরের উপরেও। যেখানে সবে একটু দাম কমেছিল, সেখানে এই মড়ক লাগাতেই দাম আবার আকাশ ছুঁয়েছে। এক মৎস আধিকারিক জানান, “কারখানার দূষিত জল বেশি পরিমাণে মিশলে মাছে মড়ক লাগার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে কারখানার দূষিত বর্জ্য এখানকার গাঙ্গেয় শুশুক ও ইলিশের উপরে প্রভাব ফেলে। তবে এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে।”