“উদারভাবে সাহায্য করেছে” রাষ্ট্রপুঞ্জে সর্বসমক্ষে ভারতকে ধন্যবাদ জানালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

Published:

Nepal PM

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: একদিকে যেখানে জাতিসংঘের (United Nations) সাধারণ পরিষদের অধিবেশন মঞ্চে ভারত বিরোধী সুর তুলছে পাকিস্তান এবং তার সহযোগী তুরস্ক, সেই পর্বে দাঁড়িয়ে ওই একই মঞ্চ থেকে বিশেষভাবে ভারতকে ধন্যবাদ জানালেন নেপালের (Nepal) প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ (Balen Shah)। টেকশি-ত্রিশূলী দুর্যোগের পরবর্তী সময়ে কাঠমান্ডু যে সহায়তা পেয়েছিল সে সবই উল্লেখ করে ভারত এবং চিনের প্রশংসা করেছেন প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এই দুই দেশ সংকটকালে নেপালকে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করেছিল।

জাতিসংঘে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বালেন

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের প্রশংসা করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশটিতে হওয়া বন্যা ও ধসের পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে ভারত এবং চিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সংবাদ সংস্থা ANI এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অধিবেশন চলাকালীন বালেন শাহ হিমালয় নিয়ে একটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাবও দেন। তাতে নেপালের সাথে সাথে ভারত এবং চিনের অগ্রণী ভূমিকা উল্লেখ করেন তিনি।

ওই অধিবেশন চলাকালীন নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের গুরুত্বও সর্বসমক্ষে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “এই হিমালয় পর্বতমালা প্রায় 200 কোটি মানুষের জল ও জীবিকার যোগান দেয়। তাই হিমালয়ের দুর্যোগ বা জলবায়ু সংকট মোকাবিলার দায়িত্ব কোনও একক রাষ্ট্রের হতে পারে না।” এদিন প্রতিবেশী দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেপালের নেতৃত্বে হিমালয়ান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম তৈরির প্রস্তাব দেন। সেখানে ভারত এবং চিনকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

ওই অধিবেশন চলাকালীন ভাষণ দিতে গিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগের সময়কার কথা স্মরণ করে সরাসরি ভারতকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আমাদের চরম দুর্যোগের সময় দুটি প্রতিবেশী দেশ নেপালকে দ্রুত এবং উদারভাবে সাহায্য করেছে। তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ।” এদিন ভারত এবং চিনকে সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি জাতিসংঘ ব্যবস্থা, অন্যান্য মানবিক সংস্থা সহ বিশ্বের বাকি দেশ এবং সংস্থাগুলিকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন বালেন।

আরও পড়ুন: দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে করতে উদ্যোগী আদানি গ্রুপ, কোন রুটে? অপেক্ষা সরকারি অনুমতির

এখানেই শেষ নয়, এদিন টেকোশী-ত্রিশূলী দুর্যোগকে গোটা বিশ্বের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবেই ঘোষণা করেন বালেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী খুব পরিষ্কারভাবে বলেন, “টেকোশী-ত্রিশূলী দুর্যোগকে একটি সাধারণ স্থানীয় ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটা সমগ্র বিশ্বের জন্য বড় সতর্কবার্তা। তবে প্রশ্ন এখন একটাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সত্যিই এই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করছে কিনা!” প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর দাবি, জলবায়ু সংকট এখন নেপালের জন্য শুধুমাত্র একটি মানবিক সংকট নয় বরং এটি একটি উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জও।