টাকা দিয়ে সাহায্য করে সাধারণ মানুষ, ক্যাটালিনা চ্যানেল জয় মেদিনীপুরের মেয়ে আফরিনের

Published:

Midnapore Girl English Channel

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এবার প্রশান্ত মহাসাগরে বড় সাফল্য বাংলার মেয়ের (Success Story)। সুদূর আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাটালিনা চ্যানেলের 32 কিলোমিটার সমুদ্রপথ মাত্র 15 ঘন্টা 51 সেকেন্ডে পার করেছেন মেদিনীপুরের (Midnapore) মেয়ে আফরিন জাবি। বলাই বাহুল্য, গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সাড়ে এগারোটা নাগাদ জলে নেমেছিলেন আফরিন। এরপর ভারতীয় সময়ে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে তিনটে নাগাদ ক্যাটালিনা চ্যানেল পার করেন মেদিনীপুরের আফরিন। তাঁর এই বিরাট সাফল্যে ফের উজ্জ্বল হয়েছে বাংলার মুখ।

15 ঘন্টা সাঁতার কেটে আপাতত বিশ্রামে আফরিন

ক্যালিফোরিয়ার ক্যাটালিনা চ্যানেলে নেমে দীর্ঘ সময় সাঁতার কাটার পর বৃহস্পতিবার আফরিন সাফল্য পেতেই প্রথম সেই খবর জানিয়েছিলেন মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাবের সম্পাদক পল্লব চট্টোপাধ্যায়। জানা যাচ্ছে, 15 ঘন্টা 51 সেকেন্ড সাঁতার কাটার পর ক্যাটালিনা চ্যানেল জিতে আপাতত বিশ্রামে রয়েছেন মেদিনীপুরের মেয়ে। জানা গিয়েছে, সাফল্যের পর ইতিমধ্যেই নিজের বাবার সাথে কথা বলেছেন আফরিন। কথা হয়েছে পরিবারের বাকি বেশ কয়েকজনের সাথেও।

যদিও ক্যাটালিনা চ্যানেল পার করে সফল হওয়াটা মোটেই মুখের কথা ছিল না আফরিনের জন্য। মেদিনীপুরের মেয়ে যখন জলে নেমেছে সমুদ্রের তাপমাত্রা তখন 18.6 ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার উপর সমুদ্রে বিপরীতমুখী ঢেউ। সমুদ্রের উঁচু ঢেউ সেই সাথে প্রতি ঘন্টায় 8.28 কিলোমিটারের বেশি গতিবেগে ধেয়ে আসছিল বাতাস, আর সেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে সাঁতার কেটে গিয়েছিলেন আফরিন। শেষ পর্যন্ত নিজের অদম্য জেদ এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তি নিয়ে 32 কিলোমিটারের দীর্ঘ সমুদ্রপথ অতিক্রম করে জয় লাভ করেন বাংলার মেয়ে।

 

আরও পড়ুন: “উদারভাবে সাহায্য করেছে” রাষ্ট্রপুঞ্জে সর্বসমক্ষে ভারতকে ধন্যবাদ জানালেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

আফরিনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল মেদিনীপুরের কয়েকটি শিল্প সংস্থা

মেদিনীপুরের 12 নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আফরিনের ক্যাটরিনা জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল আর্থিক সমস্যা। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা ভেবে একটা সময় ঠিক করেই ফেলেছিলেন যে লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবেন। ঠিক সেই সময় আফরিনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল মেদিনীপুরের বেশ কয়েকটি শিল্প সংস্থা। মেদিনীপুরের জেলাশাসক থেকে শুরু করে পুলিশ সুপারও রাজ্যের মেয়েকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন সাধারণ মানুষও। শেষ পর্যন্ত আমজনতা এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েই আমেরিকার মাটিতে নিজের লক্ষ্য পূরণ করলেন আফরিন।

google button