প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাবা রয়েছেন জেলে, তাই এবার আসন্ন উপনির্বাচনের লড়াইয়ে নন্দীগ্রামে (Nandigram) কংগ্রেসের হয়ে ভোটের প্রচারে নামলেন প্রার্থী মিলন প্রধানের (Milan Pradhan) ১৫ বছরের মেয়ে। শুধু তাই নয় মিডিয়ার সামনেই বাবার জন্য আওয়াজ তুলেছেন। রাজ্যের বিজেপি সরকারের (Government Of West Bengal) সমালোচনা করে নেটিজেনদের সামনে তুলে ধরেছেন একাধিক প্রশ্ন। আর সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
ভোটের প্রচারে বাবার পাশে দাঁড়ালেন মেয়ে
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের মেয়ে, দশম শ্রেণির ছাত্রী অরুণিমা প্রধান একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে, “আমার বাবা মিলন প্রধান নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী। কিন্তু বর্তমানে আমার বাবাকে ভুলভাল কেস দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে আমার দাদু ছিলেন, আমার বাবা ছিলেন, শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন, আরও অনেকে ছিলেন। যখন অনেকেই ছিল, তাহলে আজ শুধু কেন আমার বাবাই দোষী? কেউ এমনিই বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ লক আপে? এটা কোন ধরনের বিচার। আমি একজন জেন জি। আমি দেখেছি যন্তর মন্তরে কীভাবে প্রতিবাদ হয়েছে। আমি এখন বুঝতে পারি কীসের জন্য এই প্রতিবাদ, কারণ আমি এখন একটা বাস্তব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি।”
জনসমক্ষে অনুরোধ বার্তা অরুণিমার
ভিডিও বার্তায় দশম শ্রেণির ছাত্রী নন্দীগ্রামবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে, “এই ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। আপনারা আমার বাবাকে সাপোর্ট করুন। এই প্রথমবার নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র লড়াইয়ে নেমেছেন। বাকিরা যাঁরা রয়েছেন, নন্দীগ্রামের নাম ভাঙিয়ে নেতা হয়েছেন। তিনি হয়তো আন্দোলনে ছিলেন, আর আমার বাবা-দাদুরা নেতৃত্বে ছিলেন। আজ তাঁরা জেলে। তাই আমি আপনাদের কাছে এই আবেদন রাখতে চাই যে আপনারা আমার বাবাকে আশীর্বাদ করুন। আমার বাবা সৎ ও অহিংসার লড়াই লড়ছেন, তাঁকে দয়া করে সাপোর্ট করুন।”
আরও পড়ুন: ৩৭১৯ ICT শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ১৯ বছরের পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন পর্বে খুন, খুনের চেষ্টা, লোকজন নিয়ে জমায়েত, লুটপাট-সহ নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা রুজু হয়। তার মধ্যে প্রথমে পাঁচটি মামলায় গ্রেফতার করা হয় মিলন প্রধানকে। যদিও বৃহস্পতিবারের শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্করের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে, মিলন প্রধানের অন্তবর্তী জামিন মঞ্জুর হয়েছে। এবং রাজ্যকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দিন। এদিকে, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য।










