সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বিরাট রেকর্ড গড়ল হাওড়া ডিভিশন। দেশের মধ্যে প্রথমবার EMU ট্রেনের রেকে সফলভাবে পরীক্ষা হল কবচ v4.0 সিস্টেমের (Kavach 4.0)। এর আগে দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনে কবচের পরীক্ষা হলেও, লোকাল ট্রেনের রেকে এই প্রথম অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সফল পরীক্ষা হল। হাওড়া থেকে একটি ব্যস্ততম রুটে পরীক্ষা চালানো হয়। আর এই পরীক্ষায় সফলতাও পেয়েছে রেল। নিশ্চয়ই ভাবছেন কোন রুট? চলুন জেনে নেবেন।
হাওড়ায় লোকাল ট্রেনে অত্যাধুনিক কবচ সিস্টেমের পরীক্ষা সফল
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পরীক্ষার জন্য হাওড়া EMU কারশেডের একটি সাধারণ EMU রেক বেছে নেওয়া হয়। পরে হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে কবচ v4.0-এর পরীক্ষা করা হয়, যেখানে সফলভাবে পাশ করে এই নিরাপত্তা প্রযুক্তি। হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে EMU ট্রেনে কবচ v4.0 পরীক্ষার সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করা হয়েছে। যার মধ্যে চালকের সামনে থাকা DMI-তে সিগন্যালের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে দেখানো হয়েছে।
Major Milestone in Railway Safety!
For the first time in Indian Railways history, the latest Kavach v4.0 system was successfully trialed on an EMU (local train rake), conducted right here in the Kolkata Howrah Division! 🇮🇳A conventional EMU rake was fitted and readied at the… pic.twitter.com/iXMlDdWN1t
— বাংলার টিনটিন (@Banglar_Tintin) September 7, 2026
বিশেষ পরিস্থিতিতে সিগন্যাল ওভাররাইডের অনুমতি থাকলেও ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ১৫ কিমির বেশি হতে দেয় না কবচ। চালকের ভুলে ট্রেন লাল সিগন্যালের দিকে এগিয়ে গেলে কবচ নিজে থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্রেক প্রয়োগ করতে পারে। EMU-তে এই পরীক্ষাও সফল হয়েছে। পথে ট্রেন থেমে গেলে চালক স্টেশন মাস্টারের কাছে SOS কল করতে পারবেন। এই ব্যবস্থারও সফল পরীক্ষা হয়েছে। লোকাল ট্রেনে কবচ v4.0-এর সফল পরীক্ষা যাত্রী সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে রেল নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুনঃ সফর হবে আরও আরামদায়ক, আসানসোল-বারাণসী ট্রেনে বড় পরিবর্তন আনল
কবচ কী?
অনেকেই এখনও অবধি কবচ বিষয়টি কী তা নিয়ে ভালোভাবে জানেন না। সেক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, কবচ হলো ভারতীয় রেলের তৈরি একটি দেশীয় স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা। এর উদ্দেশ্য হলো ট্রেনের সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা এবং দুর্ঘটনার হার শূন্যে নামিয়ে আনা। যদি কোনো লোকো পাইলট (ট্রেন চালক) সংকেত অমান্য করেন বা নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করেন, তবে এই প্রযুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই ব্যবস্থাটি রেললাইনে লাগানো আরএফআইডি ট্যাগ, ট্রেনের ইঞ্জিনে লাগানো কন্ট্রোল প্যানেল এবং রেল স্টেশনে লাগানো রেডিও টাওয়ারের মধ্যে ক্রমাগত সংকেত আদান-প্রদান করে সমগ্র রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।










