১৫% মকুব! পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদৌ ডিএ মেটাতে চাইছে? টালবাহানা নিয়ে বিস্ফোরক কর্মী

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতা: বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে, অথচ বাংলার ডিএ (Dearness Allowance) মামলায় টালবাহানা কাটছে না। আরও যেন জট পাকিয়ে যাচ্ছে। কী তৃণমূল, কী বিজেপি, যে সরকারই (Government of West Bengal) আসুক না কেন সরকারি কর্মীদের দাবি অনুযায়ী ডিএ নিয়ে জট কাটছে না। এদিকে সুপ্রিম কোর্টে বারবার মামলা (Bengal DA Case) উঠলেও সেখানেও সেই হতাশ হয়েই ফিরতে হচ্ছে সকলকে। এখন প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ডিএ মেটাতে কেন এত টালবাহানা করছে, কেনই বা সর্বোচ্চ আদালতে ১৫% মুকুবের দাবি জানিয়েছে? এই নিয়ে জবাব দিলেন ডিএ মামলাকারি মলয় মুখোপাধ্যায়।

ডিএ নিয়ে আরও দীর্ঘ টালবাহানা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের?

মলয় মুখোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, শাসক দলের একটি সংগঠন, সুপ্রিম কোর্টের ২৭. ০৫. ২৬ তারিখের মামলাটি সাতদিন পিছিয়ে দেওয়ার সওয়াল করার ফলে পরবর্তী মামলাটি প্রায় দেড় মাস পিছিয়ে যায়। মাননীয় সঞ্জয় কারোলের অবসরের তারিখ ছিল ২২/০৮/২৬। ফলে ১৮/০৮/২৬ এবং ১৯/০৮/২৬ এই দু’দিন মামলাটি শোনার আগ্রহ না দেখিয়ে কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর মলয় মুখোপাধ্যায়ের তরফে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। এই ভিডিওতে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সরকার কি ডিএ মেটাবে, কী মনে করছেন কর্মীরা? এই বিষয়ে ডিএ মামলাকারী জানান, ‘সরকারি কর্মচারী যদি সরকারের তল্পিবাহক হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সরকারের মনোভাব যেটা সেটাই তখন তাঁরা বহন করে চলেন। কারণ এই যে আমরা লক্ষ্য করেছি তাঁরা কেন পিছিয়ে দেবে মামলাটা? মুখ্যমন্ত্রী বলবেন মুখ্যমন্ত্রীর মতো, সর্বোচ্চ আদালত চলবে সর্বোচ্চ আদালতের মতো। আমরা তো সেখানে জোরালোভাবে দাবি করতে পারলাম না। কারণ সরকারও সেই মানলাতেই আছে। তাঁরা বলছে সাতদিন পিছিয়ে দাও।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতে বলতে পারতাম আমাদের নির্দিষ্ট নির্দেশ মতো রাজ্য সরকার ডিএ-টা দিচ্ছে না। গ্রান্ট ইন এইড কর্মচারীরাও টাকা পাচ্ছেন না। সর্বোচ্চ আদালতে মামলা পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলছে একটি সংগঠন। এখন নয়া সরকারের যদি ইচ্ছা থাকে মামলাটা তুলে নেবে তো। বলবে আমরা নির্দিষ্ট মতো পুরো ডিএটা মিটিয়ে দেব। কিন্তু এখন বলছে এই ডিএ-টা চারটি কিস্তিতে আগামী ২০২৮ সাল অবধি দেব। আবার ১৫% রিলিফ চেয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে।’

কী প্রতিক্রিয়া কর্মীদের?

এই নিয়ে অনেকেই অনেক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফেসবুকে। একজন লিখেছেন, ‘যেই দিন  থেকে লাল চিরকুট  কিংবা সাদা খাতার বদলে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়ে কর্মচারীরা ১০০% ধর্মঘট সফল করতে সক্ষম হবে, সেই দিন আর কোনো বঞ্চনা থাকবে না। যদিও এই রাজ্যে যা অলীক স্বপ্ন।’ আরও একজন লেখেন, ‘আগে যখন এরা বিরোধী ছিল তখন একরকম কথা বলছিল এখন যখন ক্ষমতায় এলো তখন আবার উল্টো কথা বলছে আর আপনারা আন্দোলনের নামে ভেতরে ভেতরে কি গুডিং পাকাচ্ছেন দাদা? কিছু বোঝা যাচ্ছেনা।’

আরও পড়ুনঃ মহালয়ায় ইডেনে আয়োজন করা হবে দুর্গাপুজোর মেগা শো, আমন্ত্রণ জানানো হবে মোদীকে

ওপর একজন লিখেছেন, ‘আমি একজন সরকারি কর্মচারী হয়েই বলছি DA টা যেভাবে কড়ায় গন্ডায় হিসেব করছেন গত ১৫ বছরে আপনার ডিউটির হিসেবটাও একটু কড়ায় গণ্ডায় করুন।’ গ্রান্ট ইন নিয়েও অনেকে অনেক প্রশ্ন করেন। একজন লেখেন, ‘গ্র্যান্ট–ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া ডিএ/ডিআর প্রদানের ক্ষেত্রে অযথা টালবাহানা করা হচ্ছে। সত্যিই যদি বকেয়া ডিএ/ডিআর দেওয়ার সদিচ্ছা থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় হিসাব সংগ্রহ করে তা প্রদান করা সম্ভব। বারবার বিলম্ব ও অজুহাত দেখিয়ে কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মনে রাখতে হবে, কর্মীদের প্রাপ্য পাওনা আটকে রাখার এই সিদ্ধান্তের খেসারত একদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতেই হবে।’