প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিবর্তনের বাংলায় এবার বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal) আনছে নয়া চমক। জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রথমবার মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) নজিরবিহীন এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধুই তাই নয়, অনুষ্ঠানের আনন্দ দ্বিগুণ করতে অনুমান করা হচ্ছে উপস্থিত থাকতে পারেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
ইডেনে আয়োজিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
নবান্নের তরফে জানা গিয়েছে, এবার মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আসলে বাংলার দুর্গাপুজোকে বিশ্বের সামনে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরাই হবে এই মেগা শোয়ের মূল উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতি পর্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। এমনকি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মেগা অনুষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, সব কিছু যদি পরিকল্পনামাফিক চলে তাহলে আগামী ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে হবে সেই মেগা অনুষ্ঠান।
পর্যটন প্রচারের ক্ষেত্রেও পড়বে বিরাট প্রভাব
অনুষ্ঠানের কর্মসূচি এখনও ঠিক করা হয়নি, তবে নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাস, দেবীর আগমনী, বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতি, ঢাক, ধুনুচি নাচ, ছৌ এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পধারাকে সাংস্কৃতিক মঞ্চে পরিবেশন করা হবে। আর এই অনুষ্ঠানে কলকাতার শিল্পীদের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক শিল্পী ও ঢাকিকে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হতে পারে। এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন ডিজিটাল ও সম্প্রচার মাধ্যমে দেখানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারের অংশ হিসেবেও ব্যবহার করা হবে, যাতে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে। এমনিতেই কলকাতার দুর্গাপুজো UNESCO-র স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই সরকারের পরিকল্পনা, সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে পুজোর সময় কলকাতাকে প্রধান সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা।
আরও পড়ুন: নতুন রূপে ফিরছে ভোডাফোন আইডিয়া, Vi-র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন শাহরুখ খান
নবান্নের পরিকল্পনা, মহালয়ার দিন থেকেই গোটা রাজ্যে পুজোর আবহকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা হতে চলেছে। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার দিনটিকেই তাই বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে কলকাতা ও শহরতলির বেশ কয়েকটি বড় পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। আর এই প্রশ্নের মাঝে মহালয়ার দিন বিজেপির এই অনুষ্ঠান সূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এক বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। তবে যেহেতু কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স শুধু দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ নয় বরং আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিত একটি জায়গা তাই অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে রাজ্য সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।










