সৌভিক মুখার্জী, তারকেশ্বর: পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে বাংলায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তারকেশ্বরে সভা করলেন তিনি। সেখান থেকেই পশ্চিমবঙ্গ তৈরির অন্যতম কারিগর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরলেন মোদী। ১৯৪৬ সালের সেই ইতিহাসের কথা আজ তারকেশ্বরের ময়দানে স্মরণ করালেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইচ্ছা করেই সেই সমস্ত ঘটনা বঙ্গবাসীর কাজ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল সরকারি মদতে।
তারকেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদী
এদিন প্রথমে ওড়িশায় সফর ছিল নরেন্দ্র মোদীর। তারপর দুপুরে দুর্গাপুরের কলাইকুণ্ডা থেকে হেলিকপ্টার করে তারকেশ্বরে পৌঁছন তিনি। সেখান থেকে সড়ক পথে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। মঞ্চে উঠেই ‘জয় বাবা তারকেশ্বর, হর হর মহাদেব’ বলে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এদিন বাংলার প্রতিটি কোনা থেকে তাজা হাওয়ার সুগন্ধ অনুভব করেন প্রধানমন্ত্রী, এবং স্পষ্ট বলেন যে, “শৃঙ্খলামুক্ত হয়েছে বাংলা। এই পরিবর্তন ভালো লাগছে তো? আজ প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ দিবস প্রত্যক্ষ করছি। তৃণমূল যেভাবে দুর্নীতি করে রেখেছিল তা ভরাট হতে সময় লাগবে। কিন্তু ডাবল ইঞ্জিন সরকার দ্বিগুণ গতিতে কাজ শুরু করেছে। সবকিছুতে নতুন গতি এসেছে। গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। কৃষি, পশু ও রাস্তার উন্নয়নও চলছে।”
প্রধানমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আমার ভাই এবং বোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাই। এই রাজ্যে সাহিত্য, সংগীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, সমাজ সংস্কার, বাণিজ্য এবং ব্যবসা আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁর অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসের রূপদান করেছেন। এমনকি ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটিতেই নিশ্চিত হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসেবে থাকবে। আর সেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান ছিল।”
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ দিবসেই বহরমপুর কোর্ট পর্যন্ত চালু ৩ মেমু লোকাল, দেখুন সময়সূচি
উল্লেখ্য, এদিন তারকেশ্বরের সভামঞ্চে ডোকরার দুর্গামূর্তি এবং বাবা তারকেশ্বরের ছবি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি সঙ্গে মোদীর হাতে রসগোল্লা এবং জলভরা সন্দেশও দেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আরএন রবিও। সেখান থেকেই বিগত তৃণমূল সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন তিনি, এবং পশ্চিমবঙ্গ দিবস নিয়ে বড় কথা শোনান। পাশাপাশি আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে বাড়তি নিরাপত্তা দিয়েও ঘিরে ফেলা হয় এবং মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত কেন্দ্র বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ।










