মেলে তিন লাখ টাকা অবধি ঋণ, তৃণমূলের কারণে স্থগিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা!

Published:

PM Vishwakarma Yojana

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই গতি পাচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি। সেই মতোই কারিগর এবং কুটির শিল্পীদের স্বাবলম্বী করতে কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা (PM Vishwakarma Yojana) দ্রুত কার্যকর করার জন্য তৎপর হয়েছে প্রশাসন। তবে সেই তৎপরতার মাঝেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক প্রশাসনিক নির্দেশ বদলকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কারিগরদের পেশা যাচাইয়ের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের লগইন আইডি তৈরির প্রক্রিয়া বুধবার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে তা হঠাৎ করে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকা সত্বেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদল

আসলে মঙ্গলবার ও বুধবারের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেখানে জেলার সমস্ত ব্লকে নির্দেশ পাঠিয়ে জানানো হয় যে, বুধবার সকাল ১১ টার মধ্যেই সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, নির্বাহী সহায়কদের ব্লক অফিসে হাজির হতে হবে। সঙ্গে আধার কার্ড এবং আধার লিঙ্কড মোবাইল নম্বর রাখতে হবে, যাতে তাদের নির্দিষ্ট লগইন আইডি তৈরি করে দেওয়া যায়।

তবে বুধবার সকালে হঠাৎ করেই জেলা প্রশাসন থেকে সংশোধিত নির্দেশ পাঠানো হয়। আর সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের আপাতত এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার বা ব্লক অফিসে আসার কোনও রকম প্রয়োজন নেই। শেষ পর্যন্ত বুধবার ব্লক অফিসে হাজির হওয়া নির্বাহী সহায়কদের লগইন আইডি তৈরি বা সক্রিয় করার কাজ প্রযুক্তিগত কারণেই স্থগিত রেখে দেওয়া হয়।

কিন্তু হঠাৎ করে কারিগরদের তথ্য যাচাইয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প থেকে পঞ্চায়েত প্রধানদের বাদ দেওয়ার পেছনে অনেকেই রাজনৈতিক মদত দেখছে। জেলাটিতে মোট গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা ২২৩টি। সেক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত রয়েছে ১৪৫টি, বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত ৭৮টি। এখনও পর্যন্ত বিরোধী দলের দখলেই রয়েছে একাধিক পঞ্চায়েত। তাই আর্থিক প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনে তৃণমূল প্রধানকে সরাসরি হস্তক্ষেপ বা ক্ষমতা দিতে নতুন সরকার বা প্রশাসন কতটা স্বচ্ছন্দ বোধ করছে তা নিয়েই উঠছে রাজনৈতিক প্রশ্ন। যদিও এক প্রশাসনিক আধিকারিক দাবি করেছেন যে, এই স্থগিতাদেশের পেছনে কোনও রকম রাজনীতি নেই। সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত এবং পোর্টাল সংক্রান্ত সমস্যাটি কারণ।

আরও পড়ুন: বাড়িতে তিনটের বেশি ঘর থাকলে মিলবে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার? দিতে হবে ৭ ধরনের তথ্য

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনায় কী কী সুবিধা মেলে?

এই প্রকল্পে যে যে সুবিধাগুলি মেলে সেগুলি হল—

  • সুবিধাভোগীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করানো হয় এবং উন্নত মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
  • প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে ভাতা বা স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়।
  • সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করার পর আধুনিক উন্নতমানের কাজের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হয়।
  • নিজের ব্যবসাকে আরও বড় করার জন্য কোনও গ্যারান্টি ছাড়া দুই দফায় মোট ৩ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে প্রথম দফায় ১ লক্ষ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ২ লক্ষ টাকা মেলে। তবে প্রথম দফার ঋণ সফলভাবে শোধ করলেই দ্বিতীয় দফার ঋণ পাওয়া যায়।