সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় (Baruipur Case) এবার আদালতে চার্জশিট পেশ করল পুলিশ। ঘটনার ৬০ দিনের মাথায় ৭০২ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। গত ৩১ আগস্ট পেশ করা হয়েছে এই চার্জশিট। এই ঘটনার এনকাউন্টারে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত প্রভাস দাসের, এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ জনকে। সেই সূত্রে বর্তমানে অভিযুক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন।
বারুইপুর কাণ্ডে চার্জশিট পেশ পুলিশের
গত ৪ জুলাই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে ধর্ষণ এবং খুন করা হয়। এমনকি খুন করার পর দেহ জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন একটি পুকুর থেকে তাঁর বস্তাবন্দী নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। ভাঙচুর থেকে শুরু করে রেললাইন অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল সিট গঠন করা হয়। তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে মোট চারজনকে।
এদিকে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস দাসকে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়ে এনকাউন্টার করা হয়, যা নিয়ে আরও উত্তেজনা ছড়ায়। তবে পুলিশ যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, সেখানে মূল অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে তিনজনকে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩৭(২), ১৪০(৩), ৬৫(১), ৭০(২), ১০৩(১), ২৩৮, ৬১ নম্বর ধারা এবং পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। তবে নির্যাতিতা ওই নাবালিকা এবং তাঁর পরিবারের পরিচয় গোপন রেখেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: “অভিষেকের লোকজনই করেছে…” ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা পাল
ওই ঘটনায় পরবর্তী সময়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে উল্লেখ করা হয়, পুকুরে ফেলে দেওয়ার আগেই ওই নাবালিকা মেয়েটির উপর চরম পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিল অভিযুক্তরা। এমনকি নাবালিকার যৌনাঙ্গে গভীর ক্ষত দেখতে পান চিকিৎসকরা। পাশাপাশি মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্নও ছিল তাঁর। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ আর জলে ডুবে শ্বাসরোধ, এই দুটিকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তারপর থেকেই চলছে তদন্ত। অবশেষে জমা পড়ল চার্জশিট।










